করোনার ওষুধ নিয়ে বাবা রামদেবের উল্টো সুর

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এখনো কোন কার্যকর ওষুধ আবিস্কার হয়নি। এ নিয়ে দেশে দেশে চলছে গবেষণা। গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা পাল্লা দিয়ে খুঁজছেন করোনার প্রতিষেধক বা ওষুধ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চয়তা নিয়ে কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক বাজারে আসেনি। 

এমন পরিস্থিতিতে বাবা রামদেবের সংস্থা ‘পতঞ্জলি’ হঠাৎ ঘোষণা করেন, বাজারে আনা হল করোনার আয়ুর্বেদিক ওষুধ ‘করোনিল’। যা খেলে করোনা যেমন হবে না, তেমনি করোনা আক্রান্তও ৭ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন। এরপরই শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ মন্ত্রণালয় পতঞ্জলিকে করোনার বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দেয়। এমনকি এফআইআর হয় রামদেবের বিরুদ্ধেও।বাধ্য হয়ে হঠাতই ভোল বদলে দিল পতঞ্জলি। তাঁরা জানিয়ে দিল, করোনা রুখতে কোনও ওষুধ তাঁরা আবিষ্কার করেনি।

‘করোনিল’ আবিষ্কারের দাবি-সহ সম্প্রতি রামদেব বলেন, ‘এ এর অভূতপূর্ব আবিষ্কার। সারা পৃথিবী দেখছে।’ অথচ 

জানা গেছে, উত্তরাখণ্ড ড্রাগ দফতরের কাছে তাঁরা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাবৃদ্ধি ও জ্বর-কাশির ওষুধের লাইসেন্স নিয়েছিল। বাস্তবে দাবি করা হয়, করোনার ওষুধ আবিষ্কার করেছে তাঁরা। এরপরই উত্তরাখণ্ড ড্রাগ দপ্তরের তরফ থেকে তাঁদেরকে নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতেই পতঞ্জলির পক্ষ  থেকে জানানো হয়েছে, ‘করোনার ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেনি সংস্থা। করোনা কিট বলেও আমরা কোনও ওষুধ বাজারে আনিনি। বরং ‘দিব্যা শ্বাসরি ভাতি, ‘দিব্যা করোনিল ট্যাবলেট’, ‘দিব্যা অণু তেল’- এই তিনটি একটি প্যাকেটে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। করোনা কিট হিসেবে কিছুই বাজারে বিক্রি করা হয়নি।’

সেইসঙ্গে পতঞ্জলি জানিয়েছে, ‘আমরা শুধু আমাদের ওষুধের সাফল্য ও গুণাবলীর কথা জানিয়েছিলাম, যা মানুষের উপর পরীক্ষা করে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তাতে করোনাভাইরাস সেরে যাবে, এমন কোথাও বলা হয়নি।’

রামদেবের ‘করোনিল’ আবিষ্কারের দাবির পরই অবশ্য কেন্দ্রের আয়ুষ মন্ত্রণালেয়ের তরফে বিবৃতি জারি করা হয়। বলা হয়, পতঞ্জলির কাছে ওষুধ ও তার কম্পোজিশন নিয়ে সমস্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। জানানো হয়েছে, সরকারি পরীক্ষা ছাড়া এভাবে ওষুধের বিজ্ঞাপন ড্রাগস ও ম্যাজিক রেমেডিস অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর আওতায় পড়বে।

যদিও রামদেব তো বটেই, সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রামদেবের সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও CEO আচার্য বালকৃষ্ণ দাবি  করেছিলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর পরই আমরা একদল বিজ্ঞানীকে নিয়োগ করেছিলাম। ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার উপাদান খুঁজে বের করা হয়। এরপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয় করোনা পজিটিভ রোগীদের উপর। আমরা ১০০% ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছি।’

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবারই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে রামদেবের বিরুদ্ধে। তবে, শুধু রামদেব নন, আচার্য বালকৃষ্ণ, জয়পুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে অ্যান্ড রিসার্চ (NIMS)-এর ডিরেক্টর বিএস তোমর, তাঁর ছেলে অনুরাগ তোমর এবং বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী অনুরাগ ভার্শনের বিরুদ্ধেও একই সঙ্গে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অর্থাৎ করোনার ওষুধ নিয়ে বেজায় চাপে পড়েছেন বাবা রামদেব। তাই বাধ্য হয়ে ভোল পালটাতে হল তাঁর সংস্থাকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!