৭০ দিনে তিন প্রধানমন্ত্রী পেল ইরাক

ইরাকে প্রধানমন্ত্রীর পদে দেশটির ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান মুস্তাফা আল-কাজেমিকে নতুন মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাহরাম সালেহ। এর মধ্য দিয়ে এক বছরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর পদে পরপর তিনজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলো। এর আগের মনোনীত আদনান আল-জুরফি মন্ত্রীসভা গঠন করতে না পারায় পদত্যাগের পর তাকে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যখন মূল শিয়া দলগুলি ইরাকের গোয়েন্দা প্রধান, মোস্তফা আল-কাজেমিকে তার পদে নেওয়ার জন্য সমাবেশ করেছিল, তখন আদনান আল-জুরফির প্রার্থিতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। কুর্দি ও সুন্নি গোষ্ঠীর প্রধানরা যখন তার প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন তখন তাঁর সম্ভাবনা আরও হ্রাস পায়।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট আল-জুরফির পদত্যাগের পরপরই কাজেমিকে (৫৩) প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন।

মুস্তাফা আল-কাজেমিকে এখন ৩০ দিনের মধ্যে তার মন্ত্রীসভা গঠন করতে হবে এবং তা অনুমোদনের জন্য দেশটির পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত আদনান আল-জুরফি মন্ত্রীসভা গঠন করতে না পারায় পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের পর নিজের ফেসবুক পেজে আল-জুরফি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিভিন্ন ইস্যুর কারণে নতুন সরকার গঠন ব্যর্থ হয়েছে। তবে এটি পার্লামেন্টে আমার বর্তমান অবস্থান থেকে জনগণকে সেবা দেওয়া থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না।’

তার আগে ইরাকের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ তওফিক আলায়ীকে মন্ত্রীসভা গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনিও মন্ত্রীসভা গঠনে ব্যর্থ হন।

২০১৯ সালের অক্টোবরে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার ব্যবস্থার দাবিতে ইরাকের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগ করলেও নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আগ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আদেল আবদুল মাহদি।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গোয়েন্দা প্রধান মুস্তফা আল-কাধিমির নাম ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টিভি।এ নিয়ে ইরাকে মাত্র ১০ সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হলেন মুস্তফা।

গতবছর কয়েকমাসের সহিংস বিক্ষোভ-সংঘর্ষে মুখ থুবড়ে পড়া সরকারে পরিবর্তন আনার চেষ্টায় হিমশিম খাচ্ছে ইরাক।

আগের প্রধানমন্ত্রী আদনান আল-জারফি তার সরকার পাস করানোর জন্য যথেষ্ট সমর্থন আদায় করতে না পেরে সরে দাঁড়ানোর পরপরই তার জায়গায় এলেন এই মুস্তফা আল-কাধিমি।

গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ, রাজনৈতিক দুর্নীতি জর্জরিত ইরাকে অর্থনীতি এমনিতেই ধ্বংসের মুখে পড়েছে, বিরাজ করছে সামাজিক অস্থিরতা। তার মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাস মহামারি।

ইরাকে তুমুল সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে চাপের মুখে গতবছর পদত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি। তিনিই এখনো সরকারের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!