November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

৩শ’ কোটি টাকা আত্মসাত : স্ত্রীকে নিয়ে সুড়ঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন ‘রয়েল চিটার’

৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে ৩শ’ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন আবাসন ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন নাসিম।স্বল্পমূল্যে জমি পাওয়া যাচ্ছে- এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গোপন সুড়ঙ্গে ছিলেন । বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৫ মামলার পলাতক আসামি নাসিমকে তৃতীয় স্ত্রীসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ জাল এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ১৪শ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, চারটি ওয়াকিটকি সেট, ছয়টি পাসপোর্ট, ৩৭টি ব্যাংক চেক এবং ৩২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

৫৫ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি নাসিম ২০০২ সাল থেকে অন্যের খাস জমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সাথে বায়না করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লাখ করে টাকা নেন। এভাবে ২৫০ মানুষকে ভুয়া চুক্তিপত্র করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন। সব মিলে নাসিম প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, বলছে র‌্যাব।

শুধু খাস ও দখল করা জমিই নয়, পানির নিচের জমিও স্বল্পমূল্যে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রতারণামূলক প্রচার করে আসছিলেন নাসিম। এছাড়া নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন নাসিম ও তার সহযোগীরা।

র‌্যাবের অধিনায়ক জানান, প্রতারক নাসিমের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তার বাবা বেলায়েত হোসেন গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। পরে তাকে নিয়ে তার বাবা রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় চলে আসেন। এরপর নাসিম মিরপুর এলাকায় পড়ালেখা করেন। তিনি নিজেকে গ্রাজুয়েট দাবি করেন। নাসিম ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঠিকাদারির কাজ করে এলেও ২০০২ সাল থেকে অভিনব প্রতারণামূলক কৌশলের মাধ্যমে নিজেকে কথিত নাসিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক পরিচয় দিতে থাকেন। এই পরিচয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে, ক্ষেত্রবিশেষে অস্ত্র প্রদর্শনপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় অন্যের জমি, খাসজমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ে দেওয়ার নামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সাথে বায়না করে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং ২৫০ জনের সঙ্গে ভুয়া চুক্তিপত্র করে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ করে টাকা হাতিয়ে নেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, বিভিন্ন সময় নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করে প্রতারণা করতেন নাসিম এবং কাজ সেরে প্রতারণার শিকার মানুষদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতেন। কখনো কখনো অস্ত্র প্রদর্শন ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতেন নাসিম। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে স্ত্রীর সহযোগিতায় ইয়াবা ও বিদেশি মদ সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ডিলার ও খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করতেন। এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাল নোটের ব্যবসা পরিচালনা করতেন এ দম্পতি। গ্রেপ্তার এড়াতে আন্ডারগ্রাউন্ডে গোপন সুড়ঙ্গে অবস্থিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্বলিত দরজাযুক্ত অফিসে পালিয়ে থাকতেন নাসিম। তার অনুপস্থিতিতে তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমা প্রতারণার কর্মকা- দেখাশোনা করতেন।

র‌্যাব জানিয়েছে, প্রতারণা, ভূমিদস্যুতা, মাদক ও জালটাকার কারবারসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা মামলার অন্তত ৫৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতারণা সংক্রান্ত অসংখ্য জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতে শাহ আলী থানাধীন ২৫/২৯, চিড়িয়াখানা রোডে নাসিম গ্রুপের অফিসে অভিযান পরিচালনার সময় তার মালিকানাধীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া যায়। সেগুলোও ভুয়া। তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমা এসব প্রতারণার কাজ দেখভাল করতেন। প্রতারক ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ প্রতারণার চারটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। প্রতারিত ভুক্তভোগীরা র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যারা মামলা করতে ইচ্ছুক, র‌্যাব-৪ তাদের প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

error: Content is protected !!