২২ বছর বয়সী রিয়নের ২০ তরুনীর সঙ্গে প্রেম: অশ্লীল ভিডিও করে ব্লাকমেইল

সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কলের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তুলে ব্লাকমেইল করার অভিযোগে পুলিশ বগুড়ায় তানজিমুল ইসলাম রিওন (২২) নামের এক যুবককে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফী আইন ও ব্লাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তার নিকট ২০ জন কিশোরী ও তরুনীর অশ্লীল স্থির চিত্র ও ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা এরা ব্লাকমেইলের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে এক স্কুল ছাত্রীর নিকট থেকে ২৩ ভরি স্বর্ণ ও নগদ প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা ব্লাক মেইল করে হাতিয়ে নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পুলিশের নিকট রয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার সাইবার পুলিশের পরিদর্শক ইমরান মাহমুদ জানান, গ্রেফতারকৃত রিওনের বাড়ি নওগাঁরা চকদেবপাড়ায়। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার চৌধুরীর পাড়ায় নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করে। সে বিবিএস’র শিক্ষার্থী।

পুলিশ জানায়, সে কথাবার্তায় অত্যান্ত স্মার্ট। আর এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরী ও কলেজ ছাত্রীদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব তার পরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টার্গেট তরুনী ও কিশোরীদের ভিডিও কলে নিয়ে আসতো। এক পর্যায়ে মোবাইলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও’র স্কিন রেকর্ডিং করতো। পরে এসব দিয়ে সে ব্লাকমেইল শুরু করতো। বগুড়া সদরের দশম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীকে সে তার প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ভিডিও কলের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি ধারণ করে। এর পর সে ওই স্কুল ছাত্রীকে জানায় টাকা ও স্বর্ণালংকার না দিলে সে এসব ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল করবে। অসহায় হয়ে পড়া ও লোকলজ্জার ভয়ে স্কুল ছাত্রীটি পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চলতি বছরের মে মাস থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্লাকমেইলকারী রিওনকে ২৩ ভরি স্বর্ন ও প্রায় ৪৮ হাজার টাকা দেয়।

স্কুল ছাত্রীটির মা বাড়ির গহনা সরানোর বিষয়টি এক পর্যায়ে টের পায়। পরে অসহায় স্কুল ছাত্রী মায়ের নিকট ঘটনা খুলে বলে। পরবর্তীতে পরিবারটি বগুড়া জেলা পুলিশের নিকট আশ্রয় নেয়। সাইবার পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ২৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের হয়। বৃস্পতিবার রাতে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকা থেকে তানজিমুল ইসলাম রিওনকে গ্রেফতার করা হয় বলে বগুড়া সাইবার পুলিশ টিমের পরিদর্শক জানান। গ্রেফতারের পর রিওনের মোবাইল ফোনে অন্তত ২০জন কিশোরী ও তরুনীর আশ্লীল ভিডিও ও স্থির চিত্র পাওয়া গেছে। ম্যাসেঞ্জারে ভিডিও কলের মাধ্যমে এসব ছবি ধারণ করা হয় বলে পুলিশ জানায়। এইসব কিশোরী ও তরুনীর মধ্যে পঞ্চম শ্রেনীর একছাত্রীও রয়েছে। রিওনের ব্লাকমেইলের শিকার হওয়া যেসব কিশোরী ও তরুনীর আশ্লীল ছবি পাওয়া গেছে সে বিষয়ে পুলিশ খোঁজ নিয়ে জেনেছে এর মধ্যে উঠতি বয়সীদের সংখ্যা বেশি। এরা কোন না কোন ভাবে ব্লাকমেইলের শিকার হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। এবাপারে বিস্তারিত তদন্ত করলে অন্যভিডিও ক্লিপ গুলোর বিষয়য়ে বিস্তারিতজানা যাবে এবং তারা কিভাবে ব্লাকমেইলের শিকার হয়েছে তা বলা যাবে বলে পুলিশ জানায়। বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা এই ঘটনা অভিভাবক ও কিশোরী-তরুনীদের জন্য সর্তকর্তা হিসাবে উল্লেখ করে বলেন,সন্তানরা যে ডিভাইসটি ব্যবহার করছেন সেটি এবং সন্তান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাদের বন্ধু নির্বাচন করছে সে বিষয়ে নজর দেয়া জরুরী।

পুলিশ পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং তার জব্দকৃত ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় যে, রিয়নের সঙ্গে একাধিক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে ২০ জনের বেশি মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশের অশ্লীল স্থিরচিত্র এবং অশ্লীল ভিডিও চিত্র তার ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জারে সংরক্ষিত রয়েছে। মেয়েদের সঙ্গে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওকলে কথা বলার সময় স্ক্রিন রের্কোডারের মাধ্যমে ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র ধারণ করে পরবর্তী সময়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়।

জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, তার বিরুদ্ধে সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিকেলে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!