১ অক্টোবর থেকে কঠোর হচ্ছে ফেসবুক, জেনে নিন নতুন নিয়ম

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী এখন ফেসবুক। মোবাইল নম্বর কিংবা একটি ইমেইল আইডির চেয়ে ফেসবুক একাউন্ট কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদে রাখতে নতুন নিয়মগুলো জেনে নিতে হবে। কারণ, আসছে ১ অক্টোবর থেকে বেশ কিছু কঠিন নিয়ম চালু হচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য। বর্ণবাদী, অশালীন ও উস্কানিমূলক পোস্টের বিষয়ে কঠোর হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক।

জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়াটি মঙ্গলবার নিজেদের টার্মস ও সার্ভিসে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। বর্ণবাদী, অশালীন ও উস্কানিমূলক কনটেন্টের বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে তারা। এছাড়াও রাজনৈতিক পোস্টের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে যাচ্ছে ফেসবুক। খবর ম্যাশেবল ও ফোর্বস।
খবরে বলা হয়, ফেসবুক চাইলে ব্যবহারকারীর কনটেন্ট ডিলিট বা অ্যাক্সেস রেস্ট্রিক্ট করে দিতে পারে। কনটেন্টের কারণে আইনী জটিলতার ঝুঁকি থাকলে ফেসবুক সেই কনটেন্টের বিষয়ে এই পদক্ষেপ নিতে পারে।
এর আগে ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীদেরকে নিরাপদ রাখতে, ক্ষতিকর রাজনৈতিক কনটেন্ট বা সাইবার হামলা প্রতিরোধ করতে প্রতিদিনই তাদেরকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তিনি বলেন, সবার সঙ্গে সুস্থ বন্ধুত্ব, বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ছাড়াও উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম এখন ফেসবুক। এজন্য সব সুবিধা পেতে ফেসবুক ব্যবহারের সময় বিদ্বেষমূলক কমেন্ট, ভুয়া তথ্য ও উস্কানিমূলক প্রচারণা যেন নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে করা না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
সবার সঙ্গে সুস্থ বন্ধুত্ব, বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ছাড়াও উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম এখন ফেসবুক। এজন্য সব সুবিধা পেতে ফেসবুক ব্যবহারের সময় বিদ্বেষমূলক কমেন্ট, ভুয়া তথ্য ও উস্কানিমূলক প্রচারণা যেন নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে করা না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
ফেসবুক থেকে কেনোসা গার্ড নামের একটি সশস্ত্র সংগঠনের পেজ সরানোর ব্যর্থতা মূলত পরিচালনাগত ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। ওই পেজ ও ইভেন্ট ফেসবুকের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছিল। এ নিয়ে অনেক অভিযোগ আসার পরও তা সরানো হয়নি। এ পেজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

ওই ঘটনায় ফেসবুকের ব্যর্থতার দায় নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন জাকারবার্গ এবং ফেসবুকের ভুল স্বীকার করেছেন। জাকারবার্গ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেনোসা শহরে বিক্ষোভের সময় গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার আগেই এ ধরনের সশস্ত্র গ্রুপের পেজ বন্ধ করে না দেওয়াটা বিশাল পরিচালনাগত ভুল। গত বুধবার ওই পেজ সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফেসবুকে কেনোসা গার্ড নামের পেজ ও ইভেন্ট খোলা নীতিমালার লঙ্ঘন। কারণ, গ্রুপটির সহিংস ধরন নিয়ে অনেক অভিযোগ এসেছিল। ভয়েস অব আমেরিকার এক খবরে বলা হয়, জ্যাকব ব্লেক নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকের ওই পেজে সশস্ত্র লোকজনকে কেনোসাতে আসতে বলা হয়। এ ঘটনায় এক সশস্ত্র যুবকের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার কেনোসাতে গুলির ঘটনার এক দিন পর ফেসবুকের পক্ষ থেকে কেনোসা গার্ড ফেসবুক পেজ ও ‘আর্মড সিটিজেনস টু প্রটেক্ট আওয়ার লাইভস অ্যান্ড প্রপার্টি’ ইভেন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার উইসকনসিনের কেনোসায় এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে গুলির ঘটনা ঘিরে ফের উত্তাল হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ স্লোগান তুলে তৃতীয় দিনের মতো কারফিউ ভেঙে গত মঙ্গলবার রাতে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, মঙ্গলবার রাতে একটি গ্যাস স্টেশনে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জাকারবার্গ ফেসবুক পেজে অভিযোগ আসার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, পর্যালোচনাকারীরা প্রাথমিক অভিযোগ খতিয়ে দেখেননি। দ্বিতীয় পর্যালোচনায় এটি স্পর্শকাতর বিবেচনা করে কেনোসা গার্ডকে বিপজ্জনক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি আমাদের নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।তবে গোলাগুলির ঘটনায় যে যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি কেনোসা গার্ডের পেজ অনুসরণ করতেন না। ফেসবুক সম্ভাব্য বিপজ্জনক সংগঠনগুলো শনাক্ত করতে এর নীতিমালা পরিবর্তন করবে বলেও জানান ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!