হোয়াইট হাউজের কঠিন সময় চলছে

মহামারি মোকাবেলায় হোয়াইট হাউজ এখন কঠিন সময় পার করছে। “যেসব রাজ্যে গভর্নররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে এই বার্তার ওপর জোর দিচ্ছেন সেখানে সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংক্রামক রোগ বিষয়ক প্রধান ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেছেন, এবিষয়ে দেশটির বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক’দিনে হঠাৎ করে ১৬টি রাজ্যে সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর হোয়াইট হাউজে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ব্রিফিং-এ তিনি এই মন্তব্য করেন।

”তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সংক্রমণের বিস্তার শ্লথ করে দিতে অবশ্যই আরো কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে । ২৬ জুন, সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা  ৪০ হাজারেরও বেশি শনাক্ত করা হয়েছে। ২৫ জুনে এই সংখ্যার প্রায় কাছাকাছি ছিল। সংক্রমণের হিসাব সম্পর্কে ‘জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার মোট ৪০,১৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন যা আগের দিনের চেয়ে সামান্য বেশি এবং নতুন রেকর্ড। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এদিনই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।  যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ এই ভাইরাসে মারা গেছেন ও আক্রান্ত হয়েছেন। সারা দেশে এপর্যন্ত ২৪, ৯২,২৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১,২৫,২৫৫ জন, আর ৬,৭০,৮০৯ জন সুস্থ হয়েছেন।

হোয়াইট হাউজ টাস্ক ফোর্সের এই সংবাদ সম্মেলনে উপসর্গ না থাকলেও তরুণ বয়সীসহ সব বয়সের জনগনের পরীক্ষা করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হুট করে বেড়ে গেছে বলেও জানান তারা। টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং অ্যারিজোনা রাজ্যে এ কারণে দোকান-পাট অফিস আদালত খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। নতুন করে আরো কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আক্রান্ত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা, সংক্রমণের হিসাব দেয়ার চেয়ে ১০ গুণ বেশি। টাস্ক ফোর্সের সমন্বয়কারী ড. ডেবোরা বির্ক্স পরীক্ষা করাতে এগিয়ে আসায় তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “আগে তাদের বলতাম বাড়িতে থাকতে, এখন আমরা তাদের পরীক্ষা করাতে বলছি।” তিনি বলেন, এর ফলে উপসর্গ না থাকার কারণে যাদের সংক্রামন ধরা পড়তো না, তাদেরকেও এখন চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

ড. ফাউচি বলেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছি। তিনি মনে করেন, কোথাও কোথাও লকডাউন একটু আগেই শিথিল করে দেওয়ার কারণে সেসব জায়গায় সংক্রমণ বেড়ে গেছে।”  তিনি এও বলেন, এই মহামারির অবসান ঘটাতে চাইলে আমাদেরকে বুঝতে হবে যে আমরাও এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ। ব্যক্তিগতভাবে যেমন আমাদের দায়িত্ব রয়েছে, তেমন সামাজিকভাবেও রয়েছে।”

তবে  ভাইস প্রেসিডেন্ট লকডাউন শিথিল করার সাথে করোনাভাইরাসের বিস্তার লাভের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এজন্য তিনি উপসর্গবিহীন আক্রান্ত লোকজনকে দায়ী করেছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!