দেহ ঘড়ির যত্ন নিন

“মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি কোন মেস্তরি বানাইয়াছে ” ফকির আলমগীরের সেই গান শুনে নাই এমন লোক বুঝি খোঁজে পাওয়া দায়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে সত্যিই আমাদের সবার দেহে একেকটা ঘড়ি আছে। আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে রয়েছে একটা ‘মাস্টার ক্লক’। এবং অন্যান্য সব অঙ্গে রয়েছে ছোট ছোট অনেকগুলো ঘড়ি। সেগুলো চলে মাস্টার ক্লকের নির্দেশনা মতো। আর এর সবই চালিত হয় দিন-রাতের আলো-আঁধারের অনুসরণে। আরেকটু পরিস্কার করে বলতে গেলে, দেয়ালে টানানো ঘড়ির কাটাতে সময় যাইহোক আমাদের দেহ ঘড়ি চলে তার নিজের হিসাবে।

দেহ ঘড়ির সুস্থতা মানে পুরো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। আর সেই সুস্থতা নির্ভর করে ঘুমের ওপর। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক সাত-আট ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু টেলিভিশন, কম্পিউটার, স্মার্টফোন এর অত্যধিক ব্যবহার আমাদের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও যারা ওভার নাইট কাজ করে তারা ঘুমের ঘাটতিটা টের পান বেশি।

লাখ টাকার জাজিম,তোশক, গদিতে শুলেও ঘুম যদি না আসে তবে তার চাইতে কষ্টের আর কী হতে পারে? জানলে অবাক হবার কথা নয় যে, বিশ্বে ঘুম বাজার বা গ্লোবাল স্লিপ মার্কেট এর মূল্য প্রায় চারশো বত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে ঘুমের সব আসবাবপত্র সহ প্রযুক্তির সাহায্যে ঘুমের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। আছে বিভিন্ন এপস।

দেহ ঘড়ির সুস্থতা বজায় রাখতে পারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা, প্রজনন ক্ষমতা, শারীরিক ফিটনেস, হজম ও বিপাক, এমনকি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘুমের বিকল্প কিছু নেই।

error: Content is protected !!