স্বাস্থ্যকর্মী হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র,গুলিবিদ্ধ ২ পুলিশ  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিওনা টেইলরের হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্ণবাদ বিরোধী এক সমাবেশ থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছে দুই পুলিশ। এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক মাসের মতো সময় বাকি থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি প্রায় পাঁচ সপ্তাহ। কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি নির্যাতন, কৃষ্ণাঙ্গদের হত্যার বিচার দাবি আর বর্ণবাদ বিরোধী স্লোগানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাতে কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে হাজারো মানুষ বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ করছিলেন। টিয়ারশেলে চারদিক ধোঁয়াচ্ছন্ন। এরই মাঝে রাজপথে চলছিল ব্রিওনা টেইলরের স্মরণে শ্রদ্ধার ফুল নিবেদনও। আসছিল টুকরো টুকরো মিছিল। এরই মধ্যে বিক্ষোভ থেকে হঠাৎ গুলিতে দুই মার্কিন পুলিশ আহত হন। আহত পুলিশ কর্মকর্তারা মৃত্যু ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছেন লুইসভিলের পুলিশপ্রধান রবার্ট শয়েডার। এ ছাড়া সন্দেহভাজন একজনকে আটকের খবরও দিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লুইসভিলে জরুরি অবস্থা জারি করাসহ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেও ছিল বর্ণবাদ বিরোধী মিছিল ও স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের সুর একটাই। তারা চাইছে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার বিচার।

এ ছাড়া গতকাল বুধবার রাতে নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়ায়ও চলেছে বিক্ষোভ। জড়ো হয়েছিল হাজারো মানুষ।

গত মার্চে কেন্টাকির লুইসভিলে ২৬ বছর বয়সী ব্রিওনা টেইলরের বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন ব্রেনান। তারপর চির বিদায়। ওই মৃত্যুর জন্য তিন পুলিশকে দায়ী করা হয়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গতকাল বুধবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের গ্র্যান্ড জুরি জরুরি সেবা বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মী কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিওনা টেইলরের হত্যার জন্য পুলিশের কোনো সদস্যকে অভিযুক্ত করতে ব্যর্থ হন।

মার্কিন বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বর্ণবাদ ও ভ্যাকসিন রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি ততটাই নাজুক হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে নভেম্বরের নির্বাচনে হারলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এমন আচরণে আক্ষেপ করে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আপনারাই বলুন, কোন দেশে বসবাস করছি!’

ব্রেওনার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের উদ্দেশ্য করে অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যানিয়েল ক্যামেরন বলেছেন, ‘সন্তান, ভাতিজি, বোন ও বন্ধু হারানোর শোক আর বেদনাকে দূরে সরিয়ে দিতে তাদেরকে আজ কিছুই দিতে পারছি না আমি।’

মার্চে ব্রেওনার ফ্ল্যাটে অভিযানে আইনের কোনো লংঘন হয়েছিল কিনা, এফবিআই তা খতিয়ে দেখছে।

গ্র্যান্ড জুরি ও’কনলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ব্রেওনার পরিবারের আইনজীবী। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ না আনাকে ‘আপত্তিকর ও অপমানজনক’ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের আগেই কর্মকর্তারা চলতি মাসে ব্রেওনার পরিবারকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছিলেন।

গ্র্যান্ড জুরির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!