প্যারেন্টিং এর শুরু হয় বিয়ের আগেই

একদা হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এক লোক এসে তার সন্তানের অবাধ্যতার জন্য অভিযোগ করল। অতঃপর ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার ছেলেকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য ডেকে আনলেন। ছেলেটি তখন ওমর ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে পালটা প্রশ্ন করল। “সন্তান হিসেবে আমার কি কি অধিকার আছে একটু বলবেন কি?”

ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন সন্তান হিসেবে তোমার বাবা-মায়ের ওপর তোমার তিনটি হক্ব বা অধিকার আছে। প্রিয় পাঠক ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নির্দেশিত সন্তানের সেই অধিকারগুলো চিরন্তন। সেগুলো হল- ১. উত্তম সন্তানের জন্য একজন যুবকের উচিত একজন উত্তম মা হতে পারবে এমন নারীকে বিয়ে করা। তদ্রূপ একজন নারীর উচিত উত্তম পুরুষ বিয়ে করা। ২. সন্তানের সুন্দর নাম দেওয়া। এবং ৩. সন্তানকে কোরআন শিক্ষা দেওয়া।

ছেলেটি তার তিনটি অধিকারেরে কথা জানতে পেরে আমীরুল মুমিনিন ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, হে আমিরুল মুমিনিন আমার বাবা আমার এই তিনটি অধিকারের একটিও আদায় করেন নি।

ছেলেটি বলল, আমার বাবা এমন একজন মহিলাকে বিয়ে করেছেন যার নামে অনেক দুর্নাম আছে। আমার নামটাও রেখেছে জঘন্য। এবং আজও পর্যন্ত আমি জানি না কোরআন কি, বা কোরআনে কি বলা আছে।

সবশেষে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছেলেটির বাবাকে ডেকে আনলেন এবং বললেন, তুমি যে সন্তানের অবাধ্যতার ব্যাপারে অভিযোগ করছ তার উপর তোমার যে দায়িত্ব ছিল তার কোনোটিও তো তুমি পালন কর নি।

প্রিয় পাঠক আজকের দিনে এটি নতুন চ্যালেঞ্জ নয় প্যারেন্টিং সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। মানব সমাজের প্রতিরূপ হল একটি পরিবার। আর পরিবারের শুরু হল বিয়ের মাধ্যমে। সুতরাং তরুণ অবস্থায়ই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে জীবন গঠন করতে হবে। বিয়ের জন্য নিজে প্রস্তুত হতে হবে। এবং পার্টনার বা জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা ধন-সম্পদ দেখে ভুল করা যাবে না।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হবে মধুর। একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিশ্বস্ত হবে। উত্তম সন্তানের জন্য পূর্ব শর্ত হচ্ছে উত্তম নারী-পুরুষের বিবাহ। আল্লাহ আমাদের সন্তান-সন্ততি এবং সমগ্র মানবজাতিকে হেফাজত করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!