স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে শুরু করেছে ইউরোপের দেশগুলো

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। কিছু কিছু দেশে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। এতে স্থরিবতা কেটে উঠতে শুরু করেছে ইউরোপের দেশগুলোতে। সোমবার থেকে কিছুটা আগের জীবন-যাত্রায় ফিরতে শুরু করেছে ইউরোপের কয়েক লাখ মানুষ।

ইতালিতে সোমবার থেকে কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। দেশটিতে ইতোমধ্যেই ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজে ফিরেছে। বেশ কিছু গণপরিবহন সেবা দেওয়া শুরু করেছে এবং অনেক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান পুণরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে।

দেশটির নাগরিকরা এখন আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত লোকজনের বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। তবে তারা একই এলাকার মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারবে, দূরের কোথাও ভ্রমণে এখনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তবে এখনও পর্যন্ত জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকছেই। এছাড়া গণপরিহন বা অনেক মানুষ চলাচল করে এমন স্থানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শেষকৃত্য আয়োজনে কিছুটা কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। ১৫ জনের মতো একটি শেষকৃত্যু অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে এখনই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

জার্মানিতে গত কয়েক সপ্তাহ পর সোমবার বিভিন্ন সেলুন খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রেতারা দোকানগুলোতে ভিড় করতে পারবেন না। তাদের আগে থেকেই সিরিয়াল দিয়ে রাখতে হবে। হ্যামবার্গের একটি সেলুন জানিয়েছে, তাদের সেলুনে ক্রেতার ভিড় লেগে গেছে। অপরদিকে, বার্লিনের একটি সেলুন জানিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহের জন্য ক্রেতারা বুকিং দিয়ে রেখেছে।

স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে গ্রীসের মানুষজনও। সোমবার থেকে ছোট ছোট দোকান, সেলুন, ফুলের দোকান, বইয়ের দোকান পুণরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ায় ইতোমধ্যেই বেশ প্রশংসিত হয়েছে গ্রিস। এই গ্রীষ্মে তারা আবারও পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে।

এদিকে, এখনও কড়াকড়ি শিথিল করেনি যুক্তরাজ্য। তবে তারা কাজে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। দেশটিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিভিন্ন স্থানে স্ক্রিনিং নিশ্চিত করা হবে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার প্রকোপ ধরা পড়ে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস। করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়েছে ইউরোপ আমেরিকা। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরেই রয়েছে স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!