স্বাগতম রমজান!

আজ অত্যন্ত ব্যথিত মন নিয়ে আমরা রমজান মাসকে স্বাগত জানাচ্ছি। অতীতের যেকোনো রমজান মাসের চেয়ে এবারের রমজান মাস যে ব্যতিক্রম। কেননা এবার আমরা বঞ্চিত হতে যাচ্ছি মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার সাওয়াব পাওয়া থেকে। সেইসাথে তারাবির নামাজের আনন্দ থেকে। তাই এবারের এই পবিত্র মাসটির প্রত্যেকটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে হবে।

হজরত সালমান ফার্সি (রা.) বর্ণনা করেন, শাবান মাসের শেষ তারিখে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। সে ভাষণে তিনি রমজানের ফজিলত, মাহাত্ম্য, গুরুত্ব ও করণীয় তুলে ধরেন। ভাষণের সূচনা করেন এভাবে ‘হে লোক সকল! তোমাদের কাছে এমন এক মাস আসছে, যা অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও বরকতময়। এ মাসে এমন একটি রজনি রয়েছে, যা হাজার মাস থেকে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এ মাসে রোজা ফরজ করেছেন এবং রাতের কিয়ামকে (তারাবির নামাজ) নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কোনো নফল ইবাদত করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ ইবাদত করল। আর যে এই মাসে ফরজ ইবাদত আদায় করল সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করল। এ মাস সবরের মাস। আর সবরের প্রতিদান জান্নাত

এ মাস পবিত্র কুরআন অবতীর্ণের মাস। তাই এ মাসে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে বেশি বেশি। যাদের কুরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ নয় তাদের চেষ্টা করা দরকার কোথায় এবং কিভাবে শুরু করা যায়। তাছাড়া ইউটিউবে অথবা গুগলে অবশ্যই খুঁজে দেখা যায়। আর নিকটস্থ মসজিদে খবর নিয়েও দেখা যেতে পারে।

দান খয়রাতের হাত প্রশস্ত করে দিতে হবে। করোনাভাইরাস কোভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্বের অসংখ্য মানুষ ভীষণ অভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের যাদের সামর্থ্য আছে তাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে সেসব মানুষকে সাহায্য করার জন্য। ঘরের মধ্যে একটা দানবাক্স রেখে প্রতিদিন দান করে মাসের শেষের দিকে একসাথে করে কোথাও দান করা যায়। আমরা তো এমনিতেই আমাদের জুম্মাবারের দান থেকে অনেক দিন ধরে বঞ্চিত।

তাক্বওয়া অর্জনের মাস রমজান মাস। তাক্বওয়া হল আল্লাহর ভীতি। আল্লাহকে ভয় করা এবং একই সাথে আল্লাহর উপর ভরসা করার নাম হল তাক্বওয়া। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুপম মহিমা সম্পর্কে জানতে হবে। অনলাইনে বা প্রিয় কোনো ইসলামিক স্কলারের (হুজুরের) কাছ থেকে গভীরভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে। তাক্বওয়া অর্জনের জন্য জানা বিশেষ প্রয়োজন। আর বলা হয় যে, জ্ঞানীর ঘুম মুর্খের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাই জেনে শুনে বুঝে ইবাদত করতে হবে।

সময় নষ্ট করা যাবে না। আমাদের সমাজে দেখা যায় রমজান মাস আসলে লুডু আর ক্যারামের বোর্ড কেনার হিড়িক পড়ে যায়। এটা জঘন্য একটা কাজ। রমজান মাসের এতো বরকতময় সময়টাকে এরকম হেলায় নষ্ট করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। করোনাভাইরাস তো চোখের সামনেই কতো প্রাণ সংহার করে নিল। তবুও কি আমরা সংশোধন করব না নিজেদেরকে? কে জানে এই রমজান যদি জীবনের শেষ রমজান মাস হয়ে যায়! আল্লাহ পাক আমাদের রমজানের পরিপূর্ণ ফজিলত অর্জন করার তৌফিক দান করুন এই প্রত্যাশা।

আংশিক সংকলিত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!