December 4, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

সৌদি প্রবাসীরা টিকিট পেয়ে খুশি, করোনা পরীক্ষা নিয়ে এখন শঙ্কায়

বিশ্বের অনেক দেশে যেতেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখতে হয়। তবে সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী দেশটিতে পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে যাত্রীদের। সৌদি আরবের ফ্লাইট ধরতে প্রবাসীদের বিমানবন্দরে রিপোর্ট করতে হবে সন্ধ্যা ৬টায়। ফ্লাইট ছাড়বে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে। তবে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টা পর্যন্ত কেউই হাতে পাননি করোনা পরীক্ষার ফল। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন রাতের ফ্লাইটের যাত্রীরা। রাত ৮টার আগে রিপোর্ট আসবে না বলে জানিয়েছেন করোনা টেস্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

‘ফেরার টিকিট পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে। শনিবার আমার ফ্লাইট। তবে দুশ্চিন্তাও আছে। করোনা টেস্ট করাতে হবে।’

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কথাগুলো বলছিলেন সৌদিপ্রবাসী মোহাম্মদ হোসেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের টিকিট কাউন্টার থেকে ফ্লাইটের টিকিট পেয়েই তিনি হন্তদন্ত হয়ে বের হয়ে যান। এ সময় মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘মহাখালীতে করোনার নমুনা দিতে যাব। কাল রিপোর্ট না পেলে ফ্লাইট বাতিল। রিপোর্ট পজিটিভ হলেও যাওয়া হবে না।’

আজ সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের কাউন্টার থেকে ৫০১ থেকে ৮৫০ নম্বর টোকেনধারী ৩৫০ জনের সৌদি ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে টিকিট দেওয়া শুরু হয়। তবে যাঁরাই টিকিট পেয়েছেন, তাঁদের সবার গন্তব্য ছিল মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটের করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র।

আরেক সৌদিপ্রবাসী মো. সিদ্দিকও যাচ্ছিলেন মহাখালী। তিনি বলেন, ‘গত রোববার টোকেন নিছি। এরপর তিন দিন সৌদি এয়ারলাইনসের অফিসে ঘুরছি। আমার মা হাসপাতালে ভর্তি। টিকিট পেয়ে দেখছি কাল ফ্লাইট। কিন্তু মাকে দেখার সময় পাচ্ছি না। এখন মহাখালী যাচ্ছি করোনা টেস্ট করাতে।’

কাল শনিবার সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের কাউন্টার থেকে ৮৫১ থেকে ১২০০ নম্বর টোকেনধারীদের ফেরার টিকিট দেওয়া হবে। রোববার ১২০১ থেকে ১৫০০ নম্বর টোকেনধারীদের টিকিট দেওয়া হবে। যাঁরা টোকেন পাননি, তাঁদের ২৯ সেপ্টেম্বর আসতে বলা হয়েছে। এই সময় পর্যন্ত সৌদি আরব যাওয়ার জন্য কোনো টিকিট বিক্রি করা হবে না।

বাংলাদেশিদের সৌদি ফেরার তাড়া থাকলেও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস নতুন করে কোনো ফ্লাইটের জন্য আবেদন করেনি বলে জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। তিনি বলেন, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস চলতি মাসে ঢাকা থেকে চারটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল। পরে ২৮ সেপ্টেম্বরের জন্য আরেকটি ফ্লাইটের আবেদন করে তারা। এরপর নতুন করে ফ্লাইট বাড়ানোর ব্যাপারে আর কোনো আবেদন এয়ারলাইনসটি করেনি।

সৌদিপ্রবাসীদের জন্য আজ ফেরার টিকিট ইস্যু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বৃহস্পতিবারের মতো এদিনও বিমানের মতিঝিল কার্যালয় থেকে টিকিট ইস্যু করা হয়। দেশে আসা ১৮ ও ২০ মার্চ জেদ্দা এবং ১৮ ও ১৯ মার্চ রিয়াদে ফেরার জন্য রিটার্ন টিকিটধারীদের টিকিট ইস্যু করা হয়। একই তারিখের রিটার্ন টিকিটধারীদের কাছে কালও টিকিট বিক্রি করবে বিমান। ২৯ সেপ্টেম্বর জেদ্দা এবং ৩০ সেপ্টেম্বর রিয়াদে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য বিমান এসব টিকিট ইস্যু করবে।

মতিঝিলে আজ সকাল ১০টা থেকে বিমান টিকিট ইস্যু করে। তবে ভোর থেকেই বিমান কার্যালয়ের সামনে টিকিটপ্রত্যাশী লোকজনের ভিড় শুরু হয়। ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বরের ছাড়া অন্য কোনো দিন বিমানের সৌদি আরবে ফ্লাইট রয়েছে কি না, সে তথ্য জানতেই বেশির ভাগ প্রবাসী এসেছিলেন।

আবুল কালাম নামে এক সৌদিপ্রবাসী বলেন, এ মাসে রিয়াদ ও জেদ্দায় বিমানের বিশেষ ফ্লাইট যাচ্ছে। কিন্তু দাম্মাম ও মদিনায় বিমানের কোনো বিশেষ ফ্লাইট নেই। এ নিয়ে বিমান কিছুই বলছে না। সার্চ

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার টিকিট হাতে পাওয়ার পর যাত্রীরা মহাখালীতে ডিএনসিসি করোনা স্যাম্পল কালেকশন বুথে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা পরীক্ষা দিতে যান। তবে যারা বিকালে ৪টার পর সেখানে পৌঁছান তাদের আর নমুনা না নিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টা থেকে মহাখালীতে লাইন ধরেন শহীদুল্লাহ। সকালে তারা সাড়ে ৯টার মধ্যে নমুনা জমা দিতে পারেন। তিনি এখন অপেক্ষা করছেন রিপোর্টের জন্য, যা নিয়ে বিমানবন্দরে যাবেন।

একই রকম দুশ্চিন্তায় জোনায়েদ। সন্ধ্যা ৬টায় বিমানবন্দরে যেতে হবে। এখনও হাতে পাননি রিপোর্ট।

সৌদিগামী আরেক প্রবাসী মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা তিন-চার দিন অপেক্ষা করে টিকিট পেলাম। ভিসার মেয়াদ শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এখনও করোনার রিপোর্ট না পেলে তো আমাদের বিদেশ যাওয়া হবে না। সব শেষ হয়ে যাবে। গতকাল বিকালে গিয়েও নমুনা দিতে পারেনি। আজ ভোর রাতে লাইন ধরে সকালে স্যাম্পল দিয়েছি। এখন আমরা কী করবো বুঝতে পারছি না।’

ডিএনসিসি করোনা স্যাম্পল কালেকশন বুথে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিপত্তি হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএসের সাবেক পরিচালক ডা. সামির কান্তি সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএসের সাবেক এই পরিচালক বর্তমানে এই কেন্দ্রের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ডা. সামির বলেন, ‘গতকাল আমাদের জানা ছিল না এতগুলো লোক পরের দিন ফ্লাইটে যাবেন। তবে সকালে দ্রুত তাদের নমুনা নেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। তা না হলে আমরা রাত ৮টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে পারতাম। তবে তাদের রিপোর্ট দিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা বাজতে পারে।’

ডা. সামির বলেন, ‘তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেগেটিভ সার্টিফিকেট লাগবে। টিকিট দেওয়ার সময় পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করলে সংকট তৈরি হবে না। এখন বিদেশগামী যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ফলে এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে টিকিট দিলে বিপত্তি দেখা দেবে না।’

তবে সৌদিগামীদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে বিমানবন্দরেই রিপোর্ট দেওয়া হবে বলেও জানান ডা. সামির।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করার পর বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিসার মেয়াদ, ফ্লাইট সংকট থাকায় কিছুটা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে প্রবাসীদের। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইটের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রী নেওয়া ‍শুরু করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও প্রবাসীদের সৌদিতে ফেরাতে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। তবে করোনা মহামারির মধ্যে সৌদিতে ফিরতে প্রবাসীদের মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কিছু শর্ত।

এদিকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম জানান, ইকামার মেয়াদ আরবি সফর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত (মানে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আরও ২৪ দিন) বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানকে রিয়াদ এবং জেদ্দায় সপ্তাহে মোট চারটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

error: Content is protected !!