November 29, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

সৌদি টিকিটের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা, হতাশায় প্রবাসীরা

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষারত অবস্থায় দেখা গেছে। এছাড়া ভিসার মেয়াদ, টিকিট, করোনা পরীক্ষাসহ নানা কিছু নিয়ে বিভ্রান্তি ও হয়রানিতে সৌদি প্রবাসীরা ।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল সোনারগাঁয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের সামনে টিকেটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।

সৌদি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও সৌদি আরবে যাওয়ার টিকিট জোগাড় করতে পারছেন না।

অনেকের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারা অনেক চেষ্টার পরেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। অপরদিকে, অনেকের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হলেও টিকিট না পাওয়ায় সৌদি আরবে যেতে পারছেন না।

রিয়াদে হাউস ড্রাইভার হিসেবে ২৩ বছর ধরে কাজ করেন চাঁদপুরের মতলব থানার নারায়নপুর ইউনিয়নের শামসুল হক। তিনি ১০ মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে আর ফিরে যেতে পারেননি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার মালিক আমার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে। কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় আমি সৌদি যেতে পারছি না। আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা বলা হয় কিন্তু এ দেশে আমাদের কোনো মূল্যই নেই। ’

সৌদির আল তায়েস সিটিতে ২০ বছর থেকে পাইপ ফিটিং এর কাজ করেন কুমিল্লা দাউদকান্দি গৌরীপুরের আশরাফুল আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। ভিসার মেয়াদ আবার বাড়িয়েছি। আমি টিকিটের টোকেনও পেয়েছি। কিন্তু টিকিটের জন্য ছয়দিন ধরে অপেক্ষা করছি। টিকেট হাতে পেলেই আমি সৌদি যেতে পারবো। ’

সরকারের প্রতি সৌদি প্রবাসীদের আবেদন, সরকার যেন দ্রুত তাদের সৌদি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। তাদের যেন দ্রুত টিকিট দেওয়া হয় এবং যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানো হয়।

সৌদি দূতাবাস রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) খুলবে এমন ঘোষণায় নোয়াখালী থেকে শনিবার ঢাকায় আসেন মো. সাব্বির। ভোর রাতেই দূতাবাসের সামনে লাইনে দাঁড়ান তিনি। তার মতো কয়েক হাজার প্রবাসী জড়ো হন দূতাবাসের সামনে। কিন্তু দূতাবাস প্রবাসীদের ভিসা আবেদন নেয়নি। দূতাবাসের অনুমোদিত কিছু ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির কাছে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়েও কাজ না হওয়ায় বাড়ি ফিরে যান সাব্বির। তার মতো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় সৌদি প্রবাসীরা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। আবেদন নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে সরকারের কাছে দাবি প্রবাসীদের।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সৌদি প্রবাসীরা কাওরান বাজারে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ফ্লাইটের টিকিট, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির দাবিতে এই বিক্ষোভ করেন তারা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারী প্রবাসীদের একাংশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আরেকাংশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে চলে যান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সামনে তারা অবস্থান নেন।
অনিশ্চয়তায় সৌদি প্রবাসীরা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয় মো. লিটনের। তিনি শনিবার ঢাকায় আসেন কুমিল্লা থেকে। মো. লিটন বলেন, ‘রবিবার দূতাবাসে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। তারা ৩১টি ভিসা এজেন্সিতে যেতে বলেছে। সেখানেও গেলাম, কোনও কাজ হয়নি। অহেতুক ঢাকায় আসলাম কষ্ট করে। আজ (মঙ্গলবার) বাড়িতে চলে যাচ্ছি। যাওয়া আসায় টাকা তো নষ্ট হয়েছেই, কষ্টও হয়েছে অনেক।’

জানা গেছে, ছুটিতে এসে আটকে পড়া সৌদি আরব প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে এখনও কোনও অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। যদিও সৌদি আরব ইকামার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়িয়েছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রবিবার প্রবাসীরা সৌদি দূতাবাসে গিয়ে হাজির হন। দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের জানানো হয়, আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ৩১ ভিসা এজেন্সির মাধ্যমে। অন্যদিকে ভিসা সেন্টারগুলো বলছে, তাদের কাছে দূতাবাসের কোনও নির্দেশনা এখনও আসেনি।

সৌদি দূতাবাস অনুমোদিত তানজুম কনসালটেন্সি সার্ভিসের ভিসা কনসালটেন্ট হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আজও (মঙ্গলবার) আমাদের কাছে দূতাবাস থেকে কোনও নির্দেশনা আসেনি। যার কারণে আমরা এখনও কোনও কার্যক্রম শুরু করিনি।’

মিডল ইস্ট কনসালটেন্সি’র ভিসা কনসালটেন্ট মো. শামীম বলেন, ‘সৌদির এখনও কোনও নির্দেশনা নেই ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি নি।
এদিকে, যারা টোকেন পেয়েছেন তাদেরও দুর্ভোগ সীমাহীন। তারা টিকিটের জন্য সাউদিয়ার অফিসের সামনের মেঝেতে শুয়ে বসে দিন কাটিয়েছেন। সীমানা প্রাচীরের ফাঁকা দিয়ে খাবার সংগ্রহ করে খেয়েছেন। চলে গেলে যদি আর প্রবেশ করতে না পারেন, এই শঙ্কায় তারা বের হননি।

error: Content is protected !!