সৌদির কাছে প্রেমিয়ার লীগ ক্লাব বিক্রি আটকাতে চান খাসোগজির প্রেমিকা

খুন হওয়া সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেংগিজ ইংলিশ প্রেমিয়ার লীগ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন – যেন তারা সৌদি আরব কর্তৃক নিউক্যাসল ইউনাইটেড ক্লাব কিনে নেয়া ঠেকিয়ে দেন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের মধ্যে ২০১৮ সালের ২রা অক্টোবর খুন করা হয় ভিন্নমতাবলম্বী সৌদি কলামিস্ট জামাল খাসোগজিকে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বাস করেন যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই তাকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিলেন – তবে যুবরাজ মোহাম্মদ তা অস্বীকার করেছেন।

প্রেমিয়ার লীগ ফুটবল ক্লাব নিউক্যাসলের ৮০ শতাংশ মালিকানা কিনে নেবার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে এনেছে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড যার প্রধান হচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

কিন্তু জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেংগিজের পক্ষ থেকে তার আইনজীবীরা বলেছেন, সেই হত্যাকান্ডের ঘটনার জন্যই নিউক্যাসল ক্লাব কিনে নেয়া প্রতিহত করা উচিত।

ইংলিশ ফুটবলের ভাবমূর্তি

প্রেমিয়ার লীগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্সকে দেয়া তাদের দেয়া এক চিঠিতে বলা হয়, নিউক্যাসল ক্লাবের সৌদি অধিগ্রহণ রোধ করাটাই হবে সঠিক, যথাযথ এবঙ আইনসংগত পদক্ষেপ‍ – বিশেষ করে মিজ চেংগিজের প্রেমিকের নির্মম হত্যাকান্ডের কথা বিবেচনা করে। এতে বলা হয়, ইংলিশ ফুটবলে এরকম জঘন্য কর্মকান্ডে জড়িত কোন ব্যক্তির” স্থান হওয়া উচিত নয়।

চিঠিতে আরো বলা হয়, যারা এমন মারাত্মক অপরাধ করে এবং তা হোয়া্‌ইটওয়াশ করার চেষ্টা করে এবং যারা তাদের অপকর্ম গোপন করতে বা ইমেজ বাড়াতে ইংলিশ ফুটবলকে ব্যবহার করতে চায় – তাদের সাথে কোন যোগাযোগ থাকলে প্রেমিয়ার লীগ ও ইংলিশ ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

দু‌’হাজার সাত সাল থেকে নিউক্যাল ক্লাবের মালিক হচ্ছে মাইক এ্যাশলি, তবে ২০১৭ সালে তিনি ক্লাবটি বিক্রি করে দেবার উদ্যোগ নেন। মনে করা হয়, সৌদি আরব প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড মূল্যে ক্লাবটি কিনে নিচ্ছে।

কিন্তু এই মালিকানা বদল নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

‘যুবরাজ মোহাম্মদ দায়ী’

সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা প্রেমিয়ার লীগের বাণিজ্যিক স্বত্ব চুরির ক্ষেত্রে ভুমিকা রেখেছে, এবং মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতির কথা বলে এই চুক্তির সমালোচনা করেছে।

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে দেশটি এরকম বড় ক্লাব বা গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়ানুষ্ঠানে বিনিয়োগ করে তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত করার চেষ্টা করছে – যাকে বলা হয় ‘স্পোর্টসওয়াশিং।‘‌ সৌদি আরব অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

খুন হবার আগে ২০১৭ সাল থেকেই মি. খাসোগজি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ছিলেন। প্রেমিকা হাতিস চেংগিজকে বিয়ে করার জন্য কিছু দলিল সংগ্রহ করতে তিনি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে গিয়েছিলেন।

তদন্তকারীরা মনে করেন – ৫৯ বছর বয়স্ক খাসোগজিকে সেখানে খুন করা হয় এবং তার দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। তার মৃতদেহের কোন সন্ধান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নি।

জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার এ্যাগনেস কালামার্ড বলেছেন, এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আছে যে এ ঘটনার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ এবং অন্য কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের সৌদি কর্মকর্তা দায়ী।

সৌদি আরবের একটি আদালতে এই খুনের জন্য ৫ ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ড এবং ৩ জনকে কারাদন্ড দেয়া হয়। তুরস্ক আলাদাভাবে ২০ জন সন্দেহভাজনকে এ ঘটনার জন্য অভিযুক্ত করেছে। বিবিসি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!