November 24, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর পর্ন ছবি, দুইজন গ্রেফতার

প্রবাসীর স্ত্রীর পর্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৯ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ মো. রাসেল মিয়া (২৭) ও বাধন মিয়া (২০) নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ও গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সরাইল উপজেলার সদরের নিজসরাইল গ্রামের রুমেলদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন গৃহবধূ। বিয়ের দেড় মাস পরই স্ত্রীকে রেখে ওই গৃহবধূর স্বামী মালয়েশিয়ায় চলে যান। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই মোবাইল ফোনে অডিও-ভিডিও কলে কথা বলতেন। স্বামীর ইচ্ছায় বিভিন্ন ধরণের ছবিও পাঠাতেন। তার বিকাশ নম্বরে স্বামী টাকা পাঠাতেন। নিজেই টাকা উত্তোলন করতেন।

গত কয়েক মাস আগে গৃহবধূ অসুস্থ হওয়ায় স্বামীর অনুমতিক্রমে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রুমেল মিয়াকে দিয়ে বিকাশের টাকা উত্তোলন করেন। এভাবে বেশ কয়েকবার টাকা উত্তোলন করে মোবাইল ফোন সেটটি ফেরত দেন রুমেল। সুযোগে বুঝে রুমেল মোবাইল সেট থেকে গৃহবধূর ব্যক্তিগত ছবিগুলো রেখে দেন।

আনুমানিক ৫-৬ মাস আগে রাসেল, বাধন, রুমেল ও আশিকসহ ৪-৫ জন গৃহবধূকে ফোন করে রুমেলের সাথে ওই গৃহবধূর ছবি থাকার বিষয়টি জানায়। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকিও দেয়। স্বামী স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার্থে গৃহবধূর স্বামী হুমকিদাতাদের সাথে কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দেয়। এর পরেও ওই যুবকেরা গৃহবধূকে ফোন করে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন এবং আরও টাকা না দিলে ওই ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে আশিক মিয়া গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেন।

সম্প্রতি তারা গৃহবধূর মোবাইল ফোন থেকে নেয়া ব্যক্তিগত ছবিগুলো এডিট করে রুমেলের ছবির সঙ্গে যুক্ত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূ স্বামীর বাড়ি থেকে জেলা শহরে বাবার বাড়িতে চলে যান। মঙ্গলবার ওই গৃহবধূ নিজসরাইল গ্রামে তার স্বামীর বাড়িতে আসলে রুমেল মিয়া তাকে গালাগালি করেন এবং আরও টাকা না দিলে ছবিগুলো ভাইরাল করার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর গৃহবধূর পিতা বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এম এম নাজমুল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিরা ব্ল্যাকমেইল করে ওই নারীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা দুইজনকে গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে অন্যদেরও।

error: Content is protected !!