সূর্যোদয়ের দেশ থেকে সুখবর দিলো বাংলাদেশের অদম্য তরুণরা

বাঙালিকে যে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যায় না, সে মাথা নোয়াবার জাতি নয়- তা আরেকবার প্রমাণ করল টিম বাংলাদেশের অদম্য তরুণরা। করোনাকালে সেই সূর্যোদয়ের দেশ থেকে এলো সুখবর।
আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (আইবিও) দু’টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে বাংলাদেশ। বিজয়ীরা হলেন- রাফসান রহমান রায়ান এবং রাদ শারার। ‘সূর্যোদয়ের দেশে হোক নতুন সূর্যোদয়- স্লোগনে এ বছর জীববিজ্ঞান উৎসবের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় থেমে যায় সে আনন্দ যাত্রা। অলিম্পিয়াড এগিয়ে নিতে বিকল্প অনলাইন প্লাটফর্ম বেছে নিতে হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে পদক জয়ের খবর আইবিও ২০২০ এর অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়। অনলাইন প্লাটফর্মে ১১ ও ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবারের আইবিও-চ্যালেঞ্জ। বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান উৎসব ২০২০ থেকে নির্বাচিত হয়ে ‘টিম বাংলাদেশ’ এর চার প্রতিযোগী অংশ নেয় অলিম্পিয়াডে। দলের অন্য দুই প্রতিযোগী হলেন- তাসনিম বিনতে জুলফিকার এবং আবরার জামিল।

করোনার সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় কোয়ারেন্টাইনে থেকে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছিলেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী রাদ শারার। ফল প্রকাশের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, এই বৈশ্বিক দুর্যোগের মধ্যেও দেশের জন্য বিশ্ব অঙ্গণ থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারার যে আনন্দ তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পরবো না। কিছু করার তাগিদ এবং নিজের ওপর আস্থা ছিল সবসময়ই কিন্তু এই অর্জন আরো দূরে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। এ বিজয়ের জন্য আমার পিতামাতা, শিক্ষক, বিডিবিও, সমকাল এবং সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অপর বিজয়ী দি আগা খান স্কুলের শিক্ষার্থী রাফসান রহমান রায়ানের জন্য দ্বিতীয় ব্রোঞ্চ পদক এটি। জীববিজ্ঞান নিয়ে এ আয়োজনের সঙ্গে জড়িতদের ধন্যবাদ জানিয়ে রায়ান বলেন, দ্বিতীয়বার অংশ নেওয়ায় প্রত্যাশা ও দ্বায়িত্ব অনেক বেশি ছিল তবুও ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে আবারও বোঞ্জ পদক পাওয়ার খবরটা আমাকে অনেক বেশি প্রশান্তি দিচ্ছে। আগামী দিনের প্রতিযোগীরা দেশের জন্য আরো ভালে ফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করি।

আন্তর্জাতিক অলিম্পয়াডে টিম বাংলাদেশের ধারাবাহিক এ বিজয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের (বিডিবিও) সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, কথা প্রকাশের কর্নধার জসিম উদ্দিনসহ আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।

আইবিও-চ্যালেঞ্জের বাংলাদেশ পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুই দিনের আয়োজনে প্রতিযোগীরা ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। কোয়ারেন্টাইনে থাকায় বাসাকেই উপকেন্দ্র করে, রাজশাহী থেকে অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় রাদ শারারকে। বাংলাদেশ পর্বে জুরি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার, বিডিবিওর সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী এবং রাজশাহী ভেন্যুতে অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান। রেজিস্টার্ড সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. তারিক আরাফাত, সাইফ বিন সালাম, তালুকদার গালিব শাহরিয়ার, মইনুল ইসলাম খান, সামিহা সাঈদ, জিয়া হাসান, হাসান জাকির এবং রাজশাহী ভেন্যুতে মো. শাহাদাত হোসেন ও মাহদি হাসান।

এবারের আসরে বিশ্বের ৯৫টি দেশের ৩৯০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২১ জন স্বর্ণ পদক, ৪২ জন রৌপ্য পদক এবং ৫৬ বোঞ্জ পদক লাভ করেছে। গত বছর অনুষ্ঠিত ৩০তম আইবিওতে বাংলাদেশ তিনটি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছিল। এবারও সূর্যোদয়ের দেশ থেকে সাফল্যের আশায় বুক বেঁধেছিল টিম বাংলাদেশ। অপেক্ষার পালা শেষে এলো চূড়ান্ত বিজয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!