সুনামগঞ্জ বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে।

পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টিতে সিলেটের সুনামগঞ্জ সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাতে পানি বেড়েই  চলছে। সড়ক ভেংগে সুরমা নদীর পানি ঢুকছে জনবসতি এলাকাগুলোতে। সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।

সুরমা নদীর পানি বেড়ে যাওয়াতে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে রবি বর্মন নামক স্থানীয় এক ভোক্তভোগী ব্যক্তিগতভাবে খবরটি জানিয়েছেন। তার দোকান ও ঘর বাড়িতে পানি উঠে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে ও তিনি জানান ।

প্রবল বৃষ্টির ফলে সুরমা নদীর পানি প্রবল বেগে বাড়তে থাকে এবং ২৭ জুন, শনিবার সুনামগঞ্জের ষোলগড় পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৬ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেষ ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০ মিঃ মিঃ বৃষ্টিপাত রেকোর্ড করা হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বেড়ে এতটা প্লাবনের সৃষ্টি করেছে যে, সুনামগঞ্জ শহরের নদী তীরবর্তী নবীনগর, ষোলগড়, উকিল পাড়া, উত্তর আরপিন নগর, ডেকোরিয়া, পশ্চিম বাজার এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় অনেক সড়কে জলাবদ্ধতার জন্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাধারন মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁচেছে। অনেক এলাকার‍্ ঘর, বাড়ি দোকানপাটে প্রচুর পানি উঠেছে বলেও জানা গেছে।

ভারতের চেরাপুঞ্জিসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আসামে ৪ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে বর্ষণ। এছাড়া দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা, তিস্তা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ বন্যা প্রবণ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানিই বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। ফলে প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এই রেকোর্ডের বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকলে  ২৯ জুনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতির আশংকা করে সুনামগঞ্জের স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রোকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, ‘এমন অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে এই শহরের আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, সব-ধরনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে তারা প্রস্তুত আছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!