সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: কাজ শুরু বিচার বিভাগীয় তদন্ত দলের

স্বামীকে বেঁধে রেখে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তদন্ত কমিটির চার সদস্য এমসি কলেজ ছাত্রবাসে এসে পৌঁছেন।এ সময় ছাত্রাবাসের নবনির্মিত ভবনসহ বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন তাঁরা। কমিটির সদস্যরা ধর্ষণ ঘটনার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

দলের প্রধান সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজললুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কাজ শুরু করেছি। এ বিষয়ে পরে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।

এর আগে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। এরপর ছাত্রাবাসে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান, অন্য সদস্যরা হলেন-মহানগর মুখ্য হাকিম মো. আবুল কাশেম, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মমিুনুন নেছা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন সুলতানা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার দায় নিরূপণে কমিটি গঠন করে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন উচ্চ আদালত।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। খবর পেয়ে রাতে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরান থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করে পরের দিন সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীর স্বামী। এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে

এ সময় তারা ছাত্রাবাসের নবনির্মিত ভবনসহ বিভিন্ন হল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এর আগে তারা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ ধর্ষণের ঘটনায় ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায়।

তিনি বলেন, আসামিদের ডিএনএ নমুনার সাথে ধর্ষিতার ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।

যাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তারা হলেন, মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া ও আইনুদ্দিন।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজে স্বামীর সাথে বেড়াতে আসা ওই গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান,কলেজের ইংরেজি বিভাগের

মাস্টর্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, অর্জুন লস্কর। এছাড়া বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল এবং তারেক আহমদকেও আসামি করা হয়েছে। এর সাথে অজ্ঞাত নামা আরো তিন জনকে আসামি করা হয় এ মামলায়।

শাহপরাণ থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, এ পর্যন্ত মামলায় এজহারনামীয় ছয়জনসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত সবাইকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!