সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ, তিন আসামির স্বীকারোক্তি

স্বামীকে বেঁধে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার ৮ আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক জিহাদুর রহমান তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। জবানবন্দী দেওয়া আসামিরা হলেন-সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম।

বিকেল সাড়ে ৩টায় কড়া পুলিশ পাহারায় তাদেরকে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ জিয়াদুর রহমানের এজলাসে নিয়ে আসা হয়।এসময় তারা আদালতে জবানবন্দী দিতে সম্মত হলে বিচারক তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জোতির্ময় সরকার তিনজনের জবানবন্দী রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রথমে জবানবন্দী দেয় অর্জুন লস্কর। এরপর যথাক্রমে সাইফুর রহমান ও রবিউল ইসলাম তাদের জবানবন্দী দেন। জবানবন্দীতে গণধর্ষণের ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে তারা সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন।

এর আগে, গত সোমবার এই তিনজনের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান। এছাড়া মামলায় গ্রেফতার আরও ৫ আসামি পাঁচদিনের রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যেই পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুইজন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাস জোর করে খোলা রাখে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!