November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: আরও তিনজন ৫ দিনের রিমান্ডে

স্বামীকে আটকে রেখে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার আরও তিনজনের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিলেট মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন- মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, সন্দেহভাজন আসামি রাজন ও আইনুদ্দিন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য তাদের আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) খোকন কুমার দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে পাঁচদিন করে রিমান্ডে পেল পুলিশ। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিন আসামিকে রিমান্ডে নেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দু’জন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেন।

এ ঘটনায় গ্রেফতারদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর ও পাঁচ নম্বর আসামি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল হাসানকে সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্ত্রীর সম্ভ্রমহানির ঘটনার পর দিন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নগরের শাহপরান (র.) থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে এসব উল্লেখ করেন প্রবাস ফেরত হতভাগা স্বামী।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন শুক্রবার আনুমানিক বিকেল ৫টায় তিনি স্ত্রীসহ প্রাইভেটকারে হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার জিয়ারত শেষে পৌনে ৮টার দিকে এমসি কলেজের মূল ফটকের সামনে এসে পাকা রাস্তার উপর গাড়ি রেখে পাশের দোকানে যান। এসময় কয়েকজন তার স্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে আসামি সাইফুর রহমান এবং অর্জুন লস্কর তাকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আসামিরা স্ত্রীসহ তাকে জোর করে গাড়িতে তোলে। এসময় তারেকুল ইসলাম তারেক ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি চালায়। তাদের পেছনের সিটে বসিয়ে আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর তাদের পাশে বসে।

শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে উঠে বসে। তারা গাড়ি নিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণের ৭ নম্বর ব্লকের ৫ তলা নতুন ভবনের দক্ষিণপূর্ব খালি জায়গায় দাঁড় করায়। এরপর অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে পেছনে পেছনে ঘটনাস্থলে আসে।

বাদী এজাহারে আরও বলেন, ছাত্রাবাস চত্বরে যাওয়ার পর তরিকুল তার মানিব্যাগ থেকে ২ হাজার টাকা নেন। শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি স্ত্রী কানের দুল ও অর্জুন লস্কর স্ত্রীর গলার সোনার চেইন কেড়ে নেয়।

পরে তার স্ত্রীকে গাড়িতে রেখে সাইফুর, তারেক রনি ও অর্জুন বাদীকে ৭ নম্বর ব্লকের পশ্চিম পাশে নিয়ে যায়। এসময় সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর প্রাইভেটকারের ভেতরেই তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। তখন স্ত্রী চিৎকার করলে বাঁচাতে চেষ্টা করেন তিনি। আসামিরা তাকে মারধর করে আটকে রাখে।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় আধ ঘণ্টা পর তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে গেলে আসামিরা প্রাইভেটকারের দরজা লক করে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে চলে যেতে বলে এবং প্রাইভেটকার নিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পায়ে হেঁটে কলেজে ছাত্রাবাসের গেটে যান। এরপর সিএনজি অটোরিকশায় টিলাগড় পয়েন্টে গিয়ে পুলিশে খবর দেন।

error: Content is protected !!