November 24, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

সিফিলিস রোগের বিস্তারে কলম্বাস দায়ী নয়: গবেষণা

এক সময় সিফিলিস রোগের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল ইউরোপে । আর নতুন বিশ্ব থেকে অভিযাত্রী কলম্বাসের মাধ্যমেই এটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রোগটি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার জন্য কলম্বাস ও তার সঙ্গীরা দায়ী নাও হতে পারেন।

সম্প্রতি গবেষকরা ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি অঞ্চলের কলম্বাসপূর্ববর্তী যুগের মানব ফসিলের ওপর সিফিলিসের জন্য দায়ী একধরনের ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পেয়েছেন। শরীর বিদ্যাবিষয়ক সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে এ নিয়ে গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে।
গবেষণাপত্রের রচয়িতা সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের প্রফেসর ভেরেনা শিনুমেন বলেন, এখন আমরা এটা বিশ্বাস করতে পারি, ইউরোপে সিফিলিস মহগামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার জন্য কলম্বাসের আমেরিকা অভিযানই দায়ী নয়।

সিফিলিস এখন খুব মারাত্মক রোগ নয়। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা পেলে সহজেই নিরাময়যোগ্য। কিন্তু মধ্যযুগে এটা মহামারি রূপে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৫ শতকের শেষ দিকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরের ২০০ বছরে এতে লাখ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল।

প্রতœতাত্ত্বিক ওই নিদর্শনগুলোতে গবেষকরা ‘ইয়াজ’নামের আরেকটি রোগের হদিশ পেয়েছেন। এই রোগও ব্যাকটেরিয়াজাত। এই রোগটির অস্তিত্ব এখনো গ্রীষ্মম-লীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলগুলোতে রয়েছে। এছাড়া প্যাথোজেন নামের আরেকটি রোগেরও অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা আগে শনাক্ত করা যায়নি।

গবেষকরা ব্যাকটেরিয়াগুলো জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে এমন ধারণায় উপনীত হয়েছেন যে, এসব ব্যাকটেরিয়া ইউরোপে ১২ থেকে ১৬ শতকের মধ্যে ছিল। এর মানে হলো কলম্বাসের জন্মের আগে এসব ব্যাকটেরিয়া ইউরোপে ছিল। গবেষণাটি এমনও ইঙ্গিত দেয় যে, সিফিলিসের উৎপত্তি ইউরোপেই হয়েছিল। ১৪৯২ থেকে ১৫০২ সালের মধ্যে চারটি ভ্রমণের মধ্য দিয়ে কলম্বাস এবং তার নাবিকদের কারণে এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সিফিলিস এখন আর মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে না। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১৬ সালেও সারা দুনিয়ায় ৬০ লাখ মানুষ সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিল। সূত্র : ইউপিআই।

error: Content is protected !!