সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন পরিবার সেপ্টেম্বরেই ইউটিলিটি সুরক্ষা হারাচ্ছে

পুরো পুথিবী হিমশিম খাচ্ছে কোভিড- ১৯ মোকাবেলায়। করোনা বিশ্বের যে সমস্ত দেশে জাঁকিয়ে বসেছে তার মধ্যে একেবারে প্রথমে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । যত দিন যাচ্ছে ততই যেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে মার্কিন মুলুকে। করোনা এর হামলায় রীতিমতো বিপর্যস্ত ট্রাম্পের দেশ। মহামারি এ ভাইরাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ব্যবস্থার ত্রুটিই শুধু তুলে ধরেনি, ধনী-গরিবের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিকেও তুলে ধরেছে প্রকটভাবে। এদিকে,করোনা মহামারিতে সরকারি জরুরি এক আদেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল পরিশোধ না করলেও যেন সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা হয় এমন সুরক্ষা পেয়ে আসছে লাখ লাখ মার্কিন পরিবার। তবে, এই আদেশের বড় একটি অংশের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় আগামী ( সেপ্টেম্বর) মাস থেকে এই সুবিধা বঞ্চিত হতে যাচ্ছে ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন পরিবার। আর অক্টোবরের শুরুতেই এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৭ কোটি ৬০ লাখে।

সম্প্রতি জ্বালানি দক্ষতা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কার্বন সুইচ তাদের একটি প্রতিবেদনে এতথ্য প্রকাশ করেছে ।
করোনা মহামারিকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও ইউটিলিটি কমিশন একটি বিধান পাস করেছে। যে বিধানে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা না হলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে বলা হয়েছে। ওহিও এবং অ্যারিজোনার মতো কয়েকটি রাজ্য নতুন করে কোনো আদেশ জারি না করলেও সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

কোনো কোনো রাজ্যে সংকট ঠেকাতে স্বল্প মেয়াদী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। এসবের বেশিরভাগের মেয়াদই শেষ যাচ্ছে খুব শিগগিরই। ১০টি রাজ্যের এই সেবা সুরক্ষা বিধানের মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বেশিরভাগই আগস্ট, সেপ্টেম্বর আর অক্টোবরে এই সুরক্ষাদেশ তুলে নিবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কার্বন সুইচের ওই প্রতিবেদনে।
গবেষণা সংস্থাটি বলছে, মার্কিন ইউটিলিটি সেবাদাতা বৃহৎ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টিই ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের স্বাভাবিক নিয়ম চালু করবে এবং বিল বকেয়া পেলে তারা গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিবে।

এ প্রসঙ্গে কার্বন সুইচের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান গবেষক মাইকেল থমাস বলেছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার একটা জোয়ার আসছে। কারণ, কোনো কোনো রাজ্যে ৩টি পরিবারের মধ্যে একটিই তাদের ইউটিলিটি সেবার বিল পরিশোধে পিছিয়ে পড়বে। এসব বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৯ শতাংশ আমেরিকান পরিবার খুবই বাজে অবস্থায় আছে যারা এমন কোনো সিদ্ধান্তে খুবই উগ্র হয়ে উঠবে বলেও ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৪টি অঙ্গরাজ্যের এই সুরক্ষা আদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। কার্বন সুইচের হিসাব, এতে করে ১লা অক্টোবরের মধ্যে ৭ কোটি ৬০ লাখ পরিবার ইউটিলিটি সেবার ক্ষেত্রে সংযোগ সুরক্ষার বাইরে চলে যাবে। তবে, ক্যালিফোর্নিয়া, কানেক্টিকাট, কেন্টাকি, মেইন, ম্যাসাচুসেটস, নিউইয়র্ক, ওয়াইমিং ও ওয়াশিংটন ডিসি এই ৭টি রাজ্য তাদের সংযোগ সুরক্ষা আদেশের শেষসীমা এখনও ঘোষণা করেনি বলে উল্লেখ করেছে গবেষণা সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি বর্তমানে ১ কোটি পরিবার ফেডারল নির্ধারিত দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে।কেউ জানে না, এর শেষ কোথায়। করোনায় ঘরে বসে প্রতিটা মানুষ এক অজানা শত্রুকে মোকাবেলা করছে। আর যার হাতে পয়সা নেই, খাবার নেই, যে সরকারের কোনো সাহায্য পাবে না সে হয়তো করোনাভাইরাসে না হলেও না খেয়ে মারা যাবে। হয়তো তারও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হরেয়ছে বলে ধরে নেয়া হবে। বর্তমান অবস্থাকে এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। এই নভেল করোনাযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবী কেমন হবে কেউ জানে না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!