December 3, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

‘সাখারভ পুরস্কার’ থেকে সু চিকে বাদ দিলো ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে ‘সাখারভ প্রাইজ কমিউনিটি’ থেকে বাদ দিয়েছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট (ইপি)। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন সমর্থন করার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
এটি ছিল মানবাধিকারের পক্ষে লড়াইরতদের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার। কিন্তু এখন আর এই পুরস্কার জয়ীদের কোনো অনুষ্ঠানে সু চি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

১৯৯০ সালে সু চিকে সাখারভ পুরস্কার প্রদান করে ইপি।
ইপি’র একটি সূত্র জানায়, পুরস্কারটি প্রত্যাহার সম্ভবপর না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইপি’র সবচেয়ে শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা এটি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা তাদের প্রতিবেদনে উপসংহার টেনেছেন, এই অভিযান গণহত্যার অভিপ্রায়ে পরিচালিত হয়েছে।

মিয়ানমার এই গণহত্যা ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) ডিসেম্বরে দেওয়া এক ভাষণে সু চি গণহত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন জানান। ৩০ মিনিটের ভাষণে ৩ হাজার ৩৭৯টি শব্দ থাকলেও একবারও তিনি রোহিঙ্গা উচ্চারণ করেননি।
সমালোচকরা বলছেন, সু চি’র এই প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পরিচয় ও অধিকার খর্বের অংশ।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ সবসময়ই নাকচ করে মিয়ানমার। তাদের দাবি, তারা ২০১৭ সালে শুধুমাত্র সেইসব রোহিঙ্গা জঙ্গির বিরুদ্ধেই অভিযান পরিচালনা করেছে, যারা পুলিশের চৌকিতে হামলা করেছে। রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে যেতে বাধ্য করা, নিপীড়ন ও অন্যান্য মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত করছে আইসিসি।

error: Content is protected !!