সাংবাদিক খাশোগি হত্যা: সৌদি আরবে আট জনের কারাদণ্ড

অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে আট জনের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একে চূড়ান্ত রায় বলে উল্লেখ করেছে সৌদি প্রসিকিউশন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার দিনে তার সঙ্গেই ছিলেন তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতেই ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন খাশোগি। তার নিখোঁজ রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তাদের ভুলে নিহত হন ওই সাংবাদিক। তবে তার মৃতদেহের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত বছরের ডিসেম্বরে এই ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তাকে প্রাণদণ্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও তাদের নাম প্রকাশ করেনি সৌদি আরব। তবে তুরস্ক আলাদাভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 সোমবার সৌদি প্রেস এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়, খাশোগি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিন ব্যক্তিকে সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত মে মাসে খাশোগির সন্তানরা বলেছিলেন, তারা তাদের বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তার মানে হত্যাকারীদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। সোমবার যাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে এর আগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।  

গত ডিসেম্বরে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন সৌদির একটি আদালত। তবে গত মে মাসে খ্যাতনামা এ সাংবাদিকের ছেলে জানান, তারা হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। ফলে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ সাজা আর কার্যকর হয়নি।

 সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক খাশোগি স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতিও পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান খাশোগি। কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ওই সময় খাশোগিকে কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি আরবের পাঠনো একদল ঘাতক হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করে তুরস্ক। এ ঘটনায় শুরুর দিকে নীরব ছিল সৌদি আরব। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে এক সপ্তাহ পর খাশোগি কনস্যুলেটের ভেতরে খুন হয়েছেন বলে স্বীকার করে দেশটি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!