শ্বশুরবাড়ির বিচার চেয়ে ‘হৃদয়বিদারক’ স্ট্যাটাস গৃহবধূর

আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস ছিল শুক্রবার (২৭ জুন) । যথাযথভাবে দিবসটি পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রে সব ধরনের নির্যাতন বন্ধে কর্মসূচি পালন করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। কিন্তু নির্যাতনবিরোধী দিবসের মধ্যই স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুক না পেয়ে নির্যাতনের অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি “হৃদয়বিদারক” স্ট্যাটাস দেন ঢাকার এক গৃহবধূ।

সুমাইয়া হাসান নামের ওই গৃহবধূ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছয়টি নির্যাতনের ছবি সংযুক্ত অভিযোগে বলেন, “আমার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে যৌতুকের জন্য মারধর করে এমন অনেকবার। আমি মামলাও করেছিলাম। কিন্তু ওরা আমাকে মানাইয়া (মিমাংসা) আবারও (নির্যাতন) করে। আমার থেকে টাকা চায়। শ্বশুর-শাশুড়ি আমার স্বামীকে বলে ওরে (গৃহবধূকে) মারলেই তোকে টাকা দিবে। তাদের সামনেই আমাকে মারধর করে।”

সুমাইয়ার অভিযোগ, “ওর (স্বামীর) ছোট ভাই হৃদয় মারধরের সময় সামনে থাকলেই ধরে না। আমার স্বামী জাহিদ হাসান অন্তুর ও তার ভাই হৃদয় নেশা করে। ছোট ভাই তার ভাইকে বলে, ‘ভাইয়া, এভাবে মারলে হবে না, ভাল করে মারো।’ ওদের এলাকায় সব মানুষ দেখে; কিন্তু কেউ কিছু বলে না।”

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে কি বিচার বলতে কিছু নাই। আমার ছোট একটা বাবু আছে। প্লিজ আমাকে হেল্প করেন।”

“আমি এগুলো অনেক আগেই করতাম। আমার স্বামী ও তার বাবা -মা আমার ভাইকে মেরে ফেলবে এই ভয় দেখায় তাই। কারণ, আমি আমার ভাইকে অনেক ভালবাসি,” বলেন এই গৃহবধূ।

ফেসবুকে সুমাইয়া জানান, তার শ্বশুর আব্দুর রহিম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী। স্ট্যাটাসের নিচে তিনি দুটি মোবাইল ফোন নম্বরও দেন তিনি। ওই নম্বরে কল দিলে অপরপ্রান্ত থেকে সুমাইয়ার শ্বশুর আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা মারধর বা নির্যাতন করিনি। ছেলেটা করেছে। এটা মীমাংসা হয়ে যাচ্ছে। আমার ছেলের ভবিষ্যতে যাতে এমনটা করতে না পারে তাই থানা পুলিশ লিখিত নিচ্ছে। সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান শনিবার (২৭ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে বলেন, “ছেলেকে আমরা থানায় নিয়ে এসেছি। মেয়েটির নির্যাতনের চিত্র আগের। আমরা মেয়ে পক্ষকে মামলা করতে বলছি। কিন্তু তারা এখনও মামলা করেনি।”

পুলিশ বলছে, গত পাঁচ বছর আগে সুমাইয়া-জাহিদের মধ্য ফেসবুকে প্রেম এবং পরে বিয়ে হয়। তিন বছর ধরে তাদের মধ্য কলহ চলছে। এর আগেও পুলিশের কাছে অভিযোগ আসে। তবে পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয় প্রতিবারই ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!