লাদাখ সীমান্তে ফের উত্তেজনা, ভারতীয় এলাকা দখল করল চীন 

ডেস্ক রিপোর্ট:

লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা যেন কমছেই না। লাদাখ সীমান্তে গলওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতের সেনাকর্মকর্তাসহ ২০ সেনা নিহত হয়। আহত হন আরও কমপক্ষে ৭৬জন। এরপর দুইদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় দেশই সেনা সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে একমত হলেও কেউই সরায়নি। সতর্ক অবস্থানে আছে দুই দেশের সেনারা। এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

পেট্রোলিং পয়েন্ট (পিপি)-১৪-কে ঘিরে প্রাণ হারাল ২০ জন ভারতীয় সেনা, তার কাছে ফের ভারতের এলাকা দখল করেছে চীনা সেনারা। এদিকে ভারত জানিয়েছে, লাদাখের স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টার ফল ভুগতে হতে পারে চীনকে।

বটল-নেক পয়েন্ট বা ওয়াই জংশন পেট্রোলিং পয়েন্ট, ভারতের মধ্যে হলেও যা বর্তমানে চীনের দখলে। ওই ওয়াই জংশন পয়েন্ট থেকেই পিপি ১০, ১১, ১১এ, ১২ ও ১৩ যাওয়ার রাস্তা। কিন্তু চীনা সেনারা বসে থাকায় আপাতত সেই এলাকায় পৌঁছতে পারছে না ভারতীয় সেনা। এর ফলে কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বন্ধ রাখতে হয়েছে ভারতকে।

সেনা সূত্রের খবর, নতুন পরিকাঠামো তৈরি না-করলেও, পয়েন্ট ১৪-সহ গোটা এলাকায় চীনা সেনার উপস্থিতির কারণে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১, ১১এ, ১২ এবং ১৩-এ পৌঁছতে পারছে না ভারতীয় সেনারা। এ দিকে দু’দিনের সফর শেষে দিল্লি ফিরে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছে সীমান্ত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন সেনাপ্রধান এম এম নরবণে। এর পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রাজনাথের। চীনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিস্রিও এ দিন বলেন, পূর্ব লাদাখে সমস্যা মেটানোর পথ একটাই।বেইজিংকে বুঝতে হবে স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টা হলে তার ফলও ভুগতে হবে। ভারতীয় বাহিনীর স্বাভাবিক টহলদারির পথে বাধা দেয়া বন্ধ হলেই সমস্যা মেটানোর পথে হাঁটা সম্ভব।

গালওয়ান উপত্যকায় পিপি-১৪-এ গত ১৫ জুন চীনা সেনারা পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা করায় দুপক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। পিছু হটে চীনারা। কিন্তু ১০ দিনের মধ্যে ফের পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪-র কাছে ঘাঁটি গেড়েছে তারা।

ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফেলেছে চীনারা। ওয়াই জংশন পয়েন্টটি থেকে লাদাখের ব্রুটসে ভারতীয় সেনার ছাউনি ৭ কিলোমিটার দূরে এবং ওই শহরের ওপর দিয়ে চলে গিয়েছে দারবুক-শাইয়োক-দৌলত বেগ ওল্ডি সড়ক, যা চীনের মাথাব্যথার কারণ। বছর দশেক আগেও চীনারা এক বার ব্রুটস পর্যন্ত ঢুকেছিল।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!