লন্ডন টাওয়ারে যান্ত্রিক ত্রুটি, হাজারও মানুষ ভোগান্তিতে

বিশ্বের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম লন্ডন টাওয়ার ব্রিজ। যেসব পর্যটক দেশটিতে ঘুরতে আসেন তাদের তালিকায় ব্রিজটি থাকে প্রথম সারিতে। কিন্তু এবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পর্যটকসহ হাজার হাজার মানুষের যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

টাওয়ার ব্রিজের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো- এটি মাঝ বরাবর আলাদা হয়ে উপরের দিকে উঠে যেতে পারে, যাতে বড় আকারের যে কোনো জাহাজ এর নিচে দিয়ে চলে যেতে পারে।

টেমস নদীতে লন্ডন টাওয়ার ব্রিজের মাঝখান দিয়ে জাহাজ পারাপারের সময় মধ্যবর্তী অংশটি দুই পাশে উঠে যায় তা ‘বাসকিউলস’ হিসেবে পরিচিত। জাহাজ পার হলে এরপর নেমে আসে এবং যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে একটি জাহাজ পার হওয়ার পর ‘বাসকিউলস’টি নেমে আসার সময় হঠাৎ আটকে গেলে সেতুর দু’পাশে যাত্রী ও যানবাহন আটকে পড়লে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

প্রায় ঘণ্টাখানেক প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে গলদঘর্ম হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ‘বাসকিউলস’টি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। একপাশের ‘বাসকিউলস’টি নেমে এলেও অপর পাশে নামেনি। ফলে সেতুটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শত শত পথচারী ও যানবাহন সেতুর দু’পাশে আটকে পড়ে।

পথচারী ও যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে গন্তব্যে চলে যেতে বলা হয়েছে। লন্ডন পুলিশ টাওয়ার ব্রিজ এলাকায় না গিয়ে ভিন্ন পথে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ব্রিজটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি এই প্রথম নয়। ২০০৫ সালে পুলিশ এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য সেতুটি ১০ ঘণ্টা বন্ধ রেখেছিল। লন্ডন টাওয়ার ব্রিজটি পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান এবং প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু সেখানে জড়ো হয়।

সেতুটির একটি ‘বাসকিউলস’র ওজন ১১শ টনের বেশি। জাহাজ ব্রিজ অতিক্রম করার সময় দুটি ‘বাসকিউলস’কে উপরে টেনে তুলতে প্রয়োগ করতে হয় ৪০০ টন শক্তি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!