লকডাউন ভেঙে যুবায়ের আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া লকডাউন উপেক্ষা করে ইসলামী আলোচক হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জানাজার জনসমুদ্র মাদ্রাসা মাঠ পেরিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে যায়।

একদিকে বিশ্বরোড মোড় হয়ে সরাইলের মোড় পর্যন্ত, অন্যদিকে আশুগঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে জানাজায় আসা মানুষের ঢল। এছাড়া ওই এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্য ছিলেন এক প্রকার নীরব দর্শক।

শনিবার সকালে জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়তলা মাদ্রাসায় আসতে থাকে লোকজন। পরে সকাল ১০টার দিকে জানাজা শুরু হয়। মাদ্রাসা মাঠ ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে যায় মানুষ। একদিকে বিশ্বরোড মোড় হয়ে সরাইলের মোড় পর্যন্ত, অন্যদিকে আশুগঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে মানুষের ঢল। এছাড়া ওই এলাকার আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। তবে সেখানে কিছু পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা ছিলেন এক রকম নীরব দর্শক। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় লকডাউন চলছে

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু জানাজায় লাখো মানুষ সমাগমের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকা থেকে লোকজন আসে। আমরা চিন্তাও করতে পারিনি যে এত লোক হবে। লোকজন আসতে শুরু করার পর আমাদের আর কিছু করার ছিলো না। তবে আগত লোকদের বলার পর তারা সামাজিক দূরত্ব (শারীরিক দূরত্ব) বজায় রেখে দাঁড়ান বলে দাবি করেন ওসি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যুবায়ের আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

যুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির এবং বেড়তলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি একাধিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। ইসলামী আলোচক হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তার বিশ্বজুড়ে।
এদিকে,পূর্ব ঘোষনা ছাড়া লকডাউনের মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহনে মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর নামাজে জানাযা হওয়ায় বেড়তলাসহ ৪ গ্রামের বাসিন্দাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করতে ৪ গ্রামকে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামগুলোতে নির্দেশনার বিষয়ে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়। গ্রামগুলো হল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শান্তিনগর, সীতাহরণ, বড়ইবাড়ি ও বেড়তলা।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন টিটু জানান, প্রশাসনের নির্দেশে গ্রামের বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে ৪ গ্রামকে লক ডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চত করতে এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল থাকবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!