লকডাউনের মধ্যেও পান কিনতে লন্ডনে বাংলাদেশিদের ভিড়!

ছোট থেকেই মা- দাদীদের দুপুরে খাওয়ার পর, সন্ধ্যাকালীন আড্ডা, কিংবা সকালে প্রাতরাশ করার পর পান সেজে খেতে দেখতাম। কি সুন্দর পানের বাটা থেকে পান বের করে সুন্দর করে সাজিয়ে খেতেন তারা। তবে এখন সেই অভ্যেস বিশেষ দেখা যায় না।

কিন্তু এখনও যে কোনও দাওয়াতে কিংবা বাড়ির শেষ পাতে পান না পেলে ঠিক তৃপ্তি পান না অনেকে। পান বানানোর হাতের গুণে বিশেষ বিশেষ দোকান তো রীতিমতো সেলিব্রিটি স্টেটাস অর্জন করে ফেলেছে! তবে করোনা আতঙ্কেও মানুষের পান খাওয়া বন্ধ হয়ে নেই। তবে সেটা আমাদের দেশ নয় ব্রিটেনে। ব্রিটেনের লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, ক্যামডেন ও নিউহামে প্রচুর বাংলাদেশিদের বসবাস। ব্রিটেনের এসব জায়গাতে প্রচুর বিক্রি হয় পান। তবে করোনার কারণে কিছু দিন ধরে দেশটিতে পান আসা বন্ধ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতে লন্ডন শহরের শেডওয়েল কাচা বাজার নামক দোকানে পান আসার খবর চারদিকে ছাড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দোকানে মানুষের ভিড় লেগে যায়। করোনা ভাইরাস,লকডাউন কোন কিছুই মানুষকে পান কেনা থেকে আটকাতে পারেনি। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ লাইনে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পানের জন্য।
শুধু পানের জন্য সরকারের কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করেননি বাঙালিরা। চাহিদার তুলনায় পান কম থাকায় দাম ছিল একটু বেশী। কিন্তু পান কৈইফিদের কাছে পান পাওয়াটা ছিল সোনার হরিণের মত।

এ বিষয়ে দোকানে কর্মরত হাবিবুর রহমান বলেন, আজ কিছু পান এসেছিল, কিন্তু এত মানুষ পান নিতে আসেন যা কল্পনার বাহিরে, সবাইকে পান দেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পান না পেয়ে অনেক মানুষ হতাশ হয়ে ফিরেছেন বাড়িতে। অনেকে আবার ফেসবুকে পান কোথায় পাওয়া যাবে তথ্য দিতে অনুরোধ করেছেন পরিচিত জনদের কাছে। জয়নাল আবেদীন নামে এক বাংলাদেশি পানের জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তথ্য দিতে অনুরোধ করেছেন। শুক্রবার অনেকে পান দিবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৫২১ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ৮২ হাজার ১৯৭ জন। অপরদিকে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ২৯১ জন সুস্থ হয়েছেন।

আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ৬১৭ জনের। আক্রান্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৩১৫ জনের।বিশ্বে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন করোনাভাইরাস। লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি প্রভৃতি নানা উপায়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তারপরও বেড়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!