রোগী বাঁচাতে না পারার অনুশোচনা ডা. নিজামের

করোনা উপসর্গ থাকায় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে মাটিতে পড়ে থাকা রোগী পবন দাসকে (৫০) বাঁচাতে না পারার অনুশোচনা রয়ে গেছে হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দিন মিজানের। এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ডা. নিজাম ও মৃত ওই রোগীর ছবি। সারাদিন রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থেকে নিজাম একটু বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল প্রাঙ্গনে এক রোগী মুমূর্ষ অবস্থায় মাটিতে পড়েছিলেন। তার অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু কেউ তাকে সাহায্যে এগিয়ে আসছিলেন না।

প্রচণ্ড গরমে সারাদিন ধরে পিপিই ও মাস্ক পরে ডিউটিরত ডা. নিজাম এ খবর পেয়ে নিজেই চলে আসেন রোগীর সেবা দিতে। যে অবস্থায় রোগী ছিল, তাকে হাসপাতালের অভ্যন্তরে নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু করতেই সময় ব্যয় হতো অনেক। পবন দাসকে বাইরে থেকে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা নেন তিনি। কিন্তু যখন দেখলেন ফুসফুসে অক্সিজেন জমছে না, সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দিতে শুরু করেন। একটা সময় এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হাসপাতালের সিড়িতে হাত-পা ছড়িয়ে বসে পড়েন। পবনের ছেলে ডা. নিজামের সিপিআর দেওয়ার ধরন আয়ত্ব করে ফেলে। এক পর্যায়ে বাবাকে সিপিআর দিতে শুরু করে সে। একটা সময় পবনের চোখ স্থির হয়ে যায়। ডা. নিজাম তার স্নায়ু পরীক্ষা করে দেখেন, ততক্ষণে মারা গেছেন পবন।

ডা. নিজাম উদ্দিন মিজান ভিডিও বার্তায় বলেন, প্রাণপণ চেষ্টা করেও পবন দাসকে বাঁচাতে পারিনি। কারণ আমাদের হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই। ভেন্টিলেটর থাকলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। তিনি বাঁচলে নিজেও স্বস্তি পেতাম। তিনি যদি একটু আগে আসতেন, যদি আমরা আরও একটু বেশি চেষ্টা করতাম হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। তাকে বাঁচাতে না পারার অনুশোচনাটা রয়ে গেল।

পবন দাসের করোনা উপসর্গ থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তার রিপোর্ট আসেনি বলেও জানান নিজাম।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন ডা. নিজাম উদ্দিন মিজান। তিনি ৩৯তম বিএসএসে সরকারি চাকরি পান। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের পদিপাড়ায় তার জন্ম। ঢাকায় পড়াশোনা করেছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!