ম্যালেরিয়ার ওষুধ দিয়ে করোনার চিকিৎসা করাতে চান ট্রাম্প!

করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইনের ব্যবহার অনুমোদন করেছে। এমন দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ক্লোরোকুইন বহু পুরনো এবং সুপরিচিত ম্যালেরিয়ার ওষুধ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সংবাদ ব্রিফিং-এ দাবি করে আসছেন যে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) – খাদ্য ও ওষুধ বিষয়ক প্রশাসন করোনাভাইরাসের চিকিৎিসার জন্য ক্লোরোকুইন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এফডিএ আমেরিকায় কোন ওষুধ ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স দেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা।

কয়েক দশক ধরে বাজারে ম্যালেরিয়ার চালু ওষুধ ক্লোরোকুইন। আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশে আজকাল আর এই ওষুধ খাবার পরামর্শ দেয়া হয় না কারণ ম্যালেরিয়ার জীবাণু এই ওষুধের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে।

কোন কোন দেশে এই ওষুধের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইনবিধি জারি করা হয়েছে, কিন্তু যেসব দেশে ওষুধের বাজার মূলত বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে সেখানে এই ওষুধ এখনও জনপ্রিয় এবং বাজারে বিক্রিও হয় অবাধে।

ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লরোকুইন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনো প্রমাণিত ওষধ নয়। তবে তা করোনার চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায় কীনা তা নিয়ে চলছে গবেষণা। ওষুধটির খারাপ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নিয়েও ডাক্তাররা এখনো দ্বিধা-বিভক্ত। করোনা আক্রান্ত রোগী যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন তখন ডাক্তার জানেন না যে রোগী কোনো ওষুধ সেবন করছেন কিনা। এমতাবস্থায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ দেওয়া রোগীর জন্য ভয়াবহ ফলাফল বয়ে আনতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ আগে থেকেই হাইড্রোক্সিক্লরোকুইন দিয়ে করোনার চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে আসছেন। সম্প্রতি তা আরও জোরদার করতে সবার কাছ থেকে মতামত নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর বসকে খুশি রাখতে সবাই তার সাথে ‘জি হুজুর ‘, একই সুর মেলাচ্ছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের এন্থনি এস ফাউসি এব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে ম্যালেরিয়া-প্রতিরোধী ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমেরিকাকে রফতানি না-করা হলে ভারতকে তার ফল ভুগতে হবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নজিরবিহীন ভাষায় এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারত ওই ওষুধ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে তুলে নিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের হানায় যে সব দেশগুলির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ তাদেরকে এরকম ২৬টি ড্রাগ সরবরাহ করা হবে – তবে সেটা করা হবে ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজস্ব প্রয়োজন মিটিয়েই।

নিউইয়র্ক ১০ঃ৫১, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০

error: Content is protected !!