November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

মেসি কি তাহলে বাধ্য হয়েই বার্সেলোনাতে থাকছেন?

মেসি মানেই বার্সেলোনা, বার্সেলোনা মানেই মেসি’ এই ধারণা এখন আর নেই।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সব জল্পনা-কল্পনার শেষ পর্যন্ত অবসান হয়েছে। আর্জেন্টাইন তারকা নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, আরো এক বছর বার্সেলোনাতেই থাকছেন তিনি।কেন ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন মেসি । লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার সম্ভাবনা একদিনে তৈরি হয়নি। বেশ কয়েক মৌসুম ধরে দলবদলের সময় এলেই মেসিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়। বার্সেলোনায় প্রায় ২০ বছর কাটানোর পর গুরুত্ব যে কমছে, এটা বুঝতে পারছিলেন তিনি।

এবার মৌসুমের মাঝপথেই ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁকে ক্লাব সভাপতি নাকি জানিয়েছিলেন, মৌসুম শেষে ক্লাবে থাকা-না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। রিয়ালের কাছে লা লিগা খেতাব হাতছাড়া হওয়া এবং বায়ার্ন মিউনিখের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগে আট গোল হজম করার পর ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন মেসি।

বার্সেলোনা ছাড়ার উদ্যোগ : চ্যাম্পিয়নস লিগে হারের পরেই বার্সেলোনা কোচ ছাটাই করে। নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যানকে নিয়োগ দেয়। তিনি এসেই জানিয়ে দেন নতুন মৌসুমে বেশ কয়েকজন তারকার কথা ভাবছেন না। সেই তালিকায় সুয়ারেজ, ভিদাল, রাকিটিচদের নাম থাকলেও মেসিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেননি নতুন বার্সা কোচ। যদিও মেসির সঙ্গে বৈঠকে কোম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দলে বাড়তি গুরুত্ব পাবেন না তিনি।

এর পরই মেসি ফ্যাক্স করে বার্সেলোনাকে জানিয়ে দেন, তিনি দলে থাকতে চান না। মেসি ফ্রি ট্রান্সফারের জন্য অনেক চেষ্টা করেন। তবে ক্লাব থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ৭০০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দিয়ে মেসি দলবদল করতে পারবেন।

মেসির বাবা জর্জ মেসি ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্ত বদল করেন মেসি।

কেন বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মেসি :

মেসি বাধ্য হয়েছেন বার্সেলোনাতে থাকতে। মেসির সঙ্গে ক্লাবের চুক্তির শর্ত ছিল, মৌসুম শেষে তিনি চাইলে চলে যেতে পারেন। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কথা ছিল জুনে। করোনার কারণে লা লিগা মৌসুম আরো দীর্ঘ হয়। ১০ জুনের আগে মেসিকে জানাতে হতো ক্লাব ছাড়ার কথা, যা তিনি করতে পারেননি। তাই নতুন মৌসুমের চুক্তি শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করে বার্সা।

মেসির সঙ্গে ক্লাবের চুক্তি ২০২১ পর্যন্ত। এর মধ্যে বার্সেলোনা ছাড়তে হলে ক্লাবকে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দিতেই হবে, যা অসম্ভব বলে মেনে নিয়েছেন মেসি নিজেও।

বার্সার সঙ্গে এই টানাপড়েন অনায়াসে আদালতে টেনি নিয়ে যেতে পারতেন মেসি। তবে ছেলেবেলা থেকে যে ক্লাব তাঁকে সবকিছু এনে দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোর্টে যেতে মন সায় দেয়নি মেসির।

ক্লাবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মেসি যা বললেন : বার্সেলোনায় থেকে যাওয়া প্রসঙ্গে গোল ডট কমকে মেসি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এবং নিশ্চিত ছিলাম যে, চাইলে আমি ক্লাব ছাড়তে পারি। প্রসিডেন্ট সবসময় বলতেন, মৌসুম শেষে ক্লাবে থাকা-না থাকার বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এখন ওরা বলছে ১০ জুনের আগে আমি ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার কথা জানাইনি। লা লিগা শেষ হওয়ার কথা ছিল জুনে। করোনার জন্য মৌসুম দীর্ঘ হয়। আমার এ বছর বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার একটাই কারণ। আমি থাকছি কারণ, প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন এ বছর আমার ক্লাব ছাড়ার একটাই উপায়। ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর শর্ত পূরণ করতে হবে, যেটা সম্ভব নয়।

মেসি বলেন, ‘আমি বার্সায় থাকছি। এখানে আমার আচরণে কোনো পরিবর্তন হবে না, যতই এখান থেকে চলে যেতে চাই না কেনো। আমি সেরাটাই দেবো। আমি সবসময় জিততে চাই, কোনো কিছুই হারতে চাই না। ক্লাব, ড্রেসিংরুম এবং আমার নিজের জন্য সবসময় সেরাটাই চাই।’

বার্সেলোনার প্রতিও আনুগত্যের কথা মেসিকেও মুখে বলতে হবে; অন্তত এভাবে বলতে হবে সেটা হয়তো কেউ কখনো ভাবেননি। অনেক জলঘোলার পর শেষ পর্যন্ত বার্সা সমর্থকদের স্বস্তির খবর দেন মেসি। জানান, আরো অন্তত ১০টি মাস তিনি ক্যাম্প ন্যু’তেই থাকছেন। কিন্তু আসলেই কি স্বস্তি ফিরেছে?

মেসি ক্লাব না বদলালেও গত কয়েক সপ্তাহে বদলে গেছে অনেক কিছু। আর তাইতো ক্লাবের প্রতি নিজের অঙ্গীকার মুখে বলে স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে তাকে।সাম্প্রতিক সময়ের নাটকীয়তাগুলো অনেক কিছু সামনে নিয়ে এসেছে। এতে বার্সা সমর্থকরাও বিভক্ত হয়ে গেছেন। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, পান থেকে চুন খসলেই বিপদ!
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মেসির সমালোচকের সংখ্যা বেড়েছে। এখন খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে তার যে ধরণের বাজে প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে তা আগে কখনো তার সঙ্গে ঘটেনি।

ডেসিংরুমেও আগের মতো স্বস্তি পাবেন না মেসি। তার পুরনো বন্ধুদের অনেককেই পাবেন না। লুইস সুয়ারেজ এবং আর্তুরো ভিদালরা হয়তো চলেই যাবেন। শুধুমাত্র জর্ডি আলবা এবং সার্জিও বুসকেটসকে হয়তো পাবেন। এদিকে নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে কতটুকু সম্মান পাবেন কিংবা আগের মতো মাঠের খেলায় স্বাধীনতা পাবেন কিনা সেটা নিয়েও আছে সন্দেহ।
এই বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই মেসি বাড়তি চাপে রাখবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মাঠের খেলায়ও। আবার পারফরম্যান্সে ঘাটতি হলেও শুনতে হবে সমালোচনা। অতএব চাপের একটা ‘দুষ্টচক্রে’ পড়ে যাবেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে লজ্জাজনকভাবে বার্সার বিদায়ের পর টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে মেসির ক্লাব ছাড়ার ঘোষণায় কষ্ট পেয়েছেন লাখো কোটি বার্সা সমর্থক। দলকে বিপদে রেখে এভাবে চলে যাবার সিদ্ধান্তকে স্বার্থপরতা বলেছেন অনেকেই।

error: Content is protected !!