মেসির জন্য কি ম্যানচেস্টার সিটির দরজাও বন্ধ হয়ে গেল!

লিওলেন মেসিকে ঘিরে নাটক যেন শেষই হচ্ছে না। বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণার পর বিভিন্ন ক্লাব তাকে নেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। কিন্তু তাকে দলে ভেড়ানোর অর্থমূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার দশা অনেকের।বার্সেলোনা ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতেই যাচ্ছেন লিওনেল মেসি-গত কয়েক দিনের খবরে এমনটা নিশ্চিতই ধরে নিয়েছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা। কিন্তু বাস্তবতা এতটা সহজ নয়। মেসিকে এখনও বার্সেলোনা ছেড়ে দেয়নি। নতুন খবর হলো, ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলাও নাকি আর্জেন্টাইন খুদেরাজকে পরামর্শ দিয়েছেন বার্সায় থেকে যেতে।

মেসির সঙ্গে গার্দিওলার ঘনিষ্ঠতার কথা সবারই জানা। ম্যানসিটিতে ফের গুরু-শিষ্যের মিলন হবে, সম্ভাব্য গন্তব্য তাই ধরে নেয়া হয়েছে এই ইংলিশ ক্লাবটিকেই। গত কয়েক দিনের গুঞ্জনে মনে হচ্ছিল, ৭০০ মিলিয়ন ইউরো রিলিজ ক্লজ দিয়ে হলেও মেসিকে দলে চায় ম্যানসিটি।

মেসির বার্সা ত্যাগ আর দলবদল নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি খোঁজখবর রাখছেন, তাদের একজন ক্রীড়া সাংবাদিক ভেরোনিক ব্রুনাটি। তিনি হতাশ হওয়ার মতো খবর দিলেন মেসিভক্তদের। ওই সাংবাদিকের দাবি, এত টাকা খরচ করে মেসিকে নেয়ার মতো অবস্থায় এখন নেই ম্যানসিটি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দিপোর্তিভোও জানিয়েছে, এ মুহূর্তে টাকা খরচ করে মেসিকে কেনা ম্যানচেস্টার সিটির জন্য অসম্ভব। কেননা কয়েক মাস আগেই ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে নিষেধাজ্ঞা থেকে কোনোমতে বেঁচেছে ক্লাবটি। এখন আবার নতুন কোনো ঝুঁকিতে তারা নিজেদের জড়াতে চাইবে না।

উয়েফার ক্লাব লাইসেন্স ও ফেয়ার প্লে নীতির লঙ্ঘন করায় ম্যানসিটিকে দুই বছরের জন্য তাদের নিষিদ্ধ করেছিল ইউরোপের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পরে কোর্ট অব আর্বিট্রেশন অব স্পোর্টসে (সিএএস) আবেদন করে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা দিয়ে পার পায় সিটিজেনরা।

মেসির রিলিজ ক্লজ ৭০০ মিলিয়ন ইউরো। যেহেতু চুক্তি নিয়ে কিছুটা সমস্যা বেঁধেছে করোনার কারণে। কিছুটা ছাড় দিতে পারে বার্সেলোনা। তবে সেটাও কোনোমতে ৩০০ মিলিয়নের কমে হবে না। এসব বিষয় আমলে না নিলে উয়েফার আইনি জটিলতায় পড়তে পারে ম্যানসিটিও।

সব দিক বিবেচনায় গার্দিওলা সম্ভবত মেসিকে আরেকটি মৌসুম বার্সেলোনায় থেকে যেতেই পরামর্শ দিয়েছেন। মৌসুম শেষ হওয়ার পর ছুটি কাটাতে নিজ বাসভূমি বার্সেলোনায় গিয়েছিলেন সিটি কোচ। ছুটি শেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন। মেসির সঙ্গে তার সামনা সামনি কথা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ক্রীড়া সাংবাদিক ভেরোনিক ব্রুনাটি এক টুইটে লিখেছেন, ‘মেসি এবং গার্দিওলার মধ্যে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। কোচ তাকে বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মৌসুম শেষে মেসি ফ্রি হলেই কেবল ম্যানচেস্টার সিটি তার কথা ভাববে। মেসি যদি এখন বেরিয়ে আসেন, তারা ট্রান্সফার ফি দিতে পারবে না।

এদিকে, মেসিকে নিয়ে এমন খবর শুনে জার্মান ক্লাব স্টুটগার্টের এক ভক্ত তাদের ক্লাবে মেসিকে নিয়ে আসতে ফান্ড খুলেছেন। ৭০০ মিলিয়ন নয়, মেসির জন্য ৯০০ মিলিয়ন ইউরো ( বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি) অর্থ জোগাড় করতে মাঠে নেমেছেন টিম আর্টম্যান নামের সেই মেসিভক্ত।

তবে অবাক করার বিষয় হলো, আর্টম্যানের চেষ্টায় মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ২৬২ মিলিয়ন ইউরো জোগাড়ও হয়েছে। তবে আদৌ কি এই পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন? যদি না পারেন তবে কি হবে? সে বিকল্প অবশ্য ভেবে রেখেছেন এই পাগল ভক্ত। সময়মতো পুরো টাকা জোগাড় না হলে কিংবা মেসি অন্য ক্লাবে চুক্তি করলে, জোগাড়কৃত অর্থ ‘ওয়াটার চ্যারিটি’তে দান করে দিবেন বলে জানান তিনি।

তবে মেসিকে কেন্দ্র করে স্টুটগার্টের ভক্তদের এমন কাণ্ডে বেশ ঝড় তুলেছে টুইটারে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!