মুনাফার উপর মুনাফার ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে

তাজমিনুল হক জিতু

অধিকাংশ বিজনেসের কোন Disaster Risk Fund নাই। চলতি মূলধনের লাস্ট ড্রপটিও ব্যবসায়ীরা এনগেজ করে ফেলে। উদ্যোক্তাগণ এবং তাদের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এর এ্যানালিস্টগন যতটা Operational Risk, Market Risk, Foreign Exchange Risk কে প্রাধান্য দেন ঠিক ততোটাই অবহেলা করেন Environment Risk, Risk borne by Act of God এর মতো বিষয়গুলোকে। ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এর ক্ষেত্রে খুব কম কোম্পানিই আছে যারা রিস্ক ফান্ড তৈরি করে। ফলশ্রুতিতে ছোট বড় দূর্যোগ বা রিসেশনেই অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোই তাদের কর্মী ছাটাই বা বেতন হ্রাসের মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। পশ্চিমা বিশ্বে এ ধরনের রিস্ক ফান্ডের প্রচলন থাকলেও আমাদের মতো নব্য উদীয়মান অর্থনীতিতে এ ধরনের চর্চা নেই বললেই চলে। তার উপর ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা মানবিক ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারাও বড় নিয়ামক। 

আমাদের দেশের অধিকাংশ ছোট বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গলা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণে ভরপুর। Highly Leveraged প্রতিষ্ঠান চাইলেও রিস্ক ফান্ড তৈরি করতে পারবেনা, কারন এতে তার কস্ট অব ফান্ড এ চাপ পড়ে। ইকুইটি বেজড কোম্পানিগুলো চাইলে এ ক্ষেত্রে অনেকটা সহজে ফান্ড তৈরি  করতে পারে। 

মাত্র ৩ মাসের ধাক্কায় সারাজীবন লাভ করা বুনেদী ব্যাংকগুলোও নাকি কর্মী ছাটাই, বেতন হ্রাসের মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। ব্যাংক গুলো নিঃসন্দেহে কাঙ্খিত মুনাফা ধরতে পারবেনা এ বছর, তার মানে এই না যে এতো দ্রুত এ ধরনের পদক্ষেপ ভাবতে তারা বাধ্য! অন্যান্য ব্যবসার কথা বাদই দিলাম না হয়। বাংলাদেশের এক্সপোর্ট জায়ান্ট গার্মেন্টস সেক্টরে বেতন বকেয়া, ছাটাই তো হরহামেশা হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে এ সমস্যা ব্যাপক! এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের পর্যাপ্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নেই, থাকলেও ঋণ নির্ভর এবং সেখানে কন্টিনজেন্সী প্রভিশনিং থাকেনা। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কন্টিনজেন্সী মেইনটেইন করা। যাতে সাময়িক আকস্মিক খরচ বহন করা যায়। 

এ ধরনের প্রভিশনিং না থাকলে দেখা যায় কোন একটা নির্দিষ্ট বিল, সেলস প্রসিড কমিটেড তারিখে না পেলে বা পেতে বিলম্ব হলেই মালিকপক্ষ চাপে পড়ে যায়। দেখা যায় কর্মীদের বেতন বোনাস বকেয়া পড়ে গেছে, কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যা, পুরো উৎপাদন বিপণনেও ব্যাঘাত ঘটে যাওয়ার মতো সমস্যাও সৃষ্টি হয়। 

ব্যবসা মানেই মুনাফা, মুনাফার উপর মুনাফা এ ধরনের ধারনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ব্যবসা অবশ্যই মুনাফা নির্ভর, তবে উদ্যোক্তাদের মনে রাখতে হবে ব্যবসা যতটা না অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান তার চেয়েও অনেক বেশি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়তে যেমন মুনাফা দরকার তেমনি তার মুনাফার কারিগরদের মনোবল ধরে রাখতে মুনাফার বাইরে আরো বেশি কিছু ভাবা দরকার। 

শুধুই মুনাফা, শুধুই প্রবৃদ্ধি অর্জন বা উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য মটিভেশনাল ব্যয় সংকোচন সব সময় যৌক্তিক নাও হতে পারে। আর সম্পদের অতিরিক্ত ঝুকি গ্রহন না করাই ভালো। সর্বোপরি টেকসই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য Disaster Risk Fund এর কোন বিকল্প নেই। এই বৈশ্বিক দুর্যোগ নিশ্চয় আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

 লেখক: তাজমিনুল হক জিতু, এমআইপিএ, এএফএ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!