মানসিক রোগীকে বুকে পা দিয়ে লাঠিপেটা করলো পুলিশ

চলমান করোনাকালে এক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে বুকে পা তুলে লাঠি পেটা করার অভিযোগে ভারতের উত্তর প্রদেশের এক পুলিশ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। লাঠিপেটার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে ওই পুলিশ সদস্যকে এ সাজা দেওয়া হয়।শনিবার উত্তর প্রদেশের এটাওয়া জেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি একটি বাড়ির ছাদ থেকে রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মাটিতে পড়ে রয়েছেন এক ব্যক্তি। আর তাকে লাঠিপেটা করছেন এক পুলিশ সদস্য। ওই ব্যক্তির হাত থেকে লাঠি বা ছোরার মতো কিছু একটা বস্তু ছাড়িয়ে পাশে রাখতেও দেখা যাচ্ছে পুলিশ সদস্যকে। সেখানে উপস্থিত সাদা পোশাকের এক পুলিশ সদস্য সেই বস্তুটি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

দুই মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পুলিশের পিটুনিতে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে তাকে ছেড়ে দিতে কাকুতি মিনতি করছেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু রেহাই করা তো দূরের কথা, মাঝে একবার উর্দির হাতা গুটিয়ে ওই ব্যক্তির বুকে পা তুলে নতুন উদ্যমে মারতে দেখা যাচ্ছে সেই পুলিশ সদস্যকে।

জানা গেছে, যে ব্যক্তিকে মারা হচ্ছিল তার মানসিক সমস্যা রয়েছে। দুই বছর আগে আগ্রায় তার চিকিৎসাও চলছিল।

পুলিশ প্রথমে জানায়, সুনীল যাদব নামের ওই ব্যক্তি মাদকাসক্ত। এলাকার মানুষকে আক্রমণ করার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এমন কী সুনীলের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পায় পুলিশ। কিন্তু গ্রামে পৌঁছাতেই সুনীল পুলিশের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করেন। এর পর পুলিশ ‘সামান্য’ বল প্রয়োগ করে তাকে হেফাজতে নেয়।

পরে এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এটাওয়া পুলিশ বিভাগের প্রধানের কাছে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেন। সেখানে স্বীকার করা হয়, এক পুলিশ কর্মী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে ওই ব্যক্তির ওপর। এই রিপোর্টেই সুনীলের মানসিক চিকিৎসার ইতিহাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

যে কনস্টেবল সুনীলের ওপর অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগ করেছিলেন তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!