ভেন্টিলেটরের চেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের সংখ্যা যে দেশে বেশি

কতটা অসহায় আধুনিক বিশ্ব! খালি চোখে দেখা যায়না, এমন অদৃশ্য এক ভাইরাসের সামনে কতটা অসহায় আজকের আধুনিক বিজ্ঞানী। কতটা অসহায় মানুষের শক্তি। কতটা দুর্বল মানুষের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সবকিছু ছাপিয়ে এখন শিরোনাম করোনাভাইরাস। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস গোটা দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানের মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ। দেশটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের সংখ্যা ৫ জন। অথচ পুরো দেশে ভেন্টিলেটর আছে মাত্র ৪ টি। এমন অবস্থা আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় সব দেশে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এই মহাদেশে মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকা মহাদেশের ৪১টি দেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য বরাদ্দ ভেন্টিলেটরের সংখ্যা ২ হাজারেরও কম। অথচ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ভেন্টিলেটর আছে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। আর আফ্রিকা মহাদেশের ১০টি দেশে কোনো ভেন্টিলেটরই নেই।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, ইউরোপ–আমেরিকার পর আফ্রিকা হতে পারে করোনাভাইরাসের নতুন উপকেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, বিশ্বজুড়ে ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ লাখ ছাড়িয়েছে করোনাভাইরাস শনাক্ত মানুষের সংখ্যা। একই সময়ে মারা গেছে দেড় লাখের বেশি মানুষ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফ্রিকার দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী নয়। ফলে এসব দেশের স্বাস্থ্যকাঠামোও উন্নত নয়। নতুন করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারে এখন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে প্রচণ্ডভাবে। আফ্রিকার দেশগুলোতে ভাইরাসটির বিস্তার সেই তুলনায় এখনো কম। কিন্তু এর বিস্তার মারাত্মক হওয়ার আশঙ্কা এখনো আছে। সে ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটরসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবার উপকরণের অভাব আফ্রিকার দেশগুলোকে ভোগাবে। শুধু ভেন্টিলেটর নয়, এই মহাদেশের দেশগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও হাত ধোয়ার সাবানেরও অভাব আছে। অথচ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এগুলো খুবই প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো এসব দেশে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার সংখ্যা অনেক কম। এটি বাড়লে করোনা শনাক্তের সংখ্যাও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা মহাদেশের ৫৫টি দেশে নিবিড় পরিচর্যা শয্যা আছে ৫ হাজারেরও কম। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য আছে ৫টি করে শয্যা। আর ইউরোপে প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য আছে প্রায় ৪ হাজার নিবিড় পরিচর্যা শয্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নতুন করোনাভাইরাসের কারণে আফ্রিকা মহাদেশে আগামী ছয় মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!