ভারত-চীনের কমান্ডারদের বৈঠক, সীমান্তে বিশেষ পর্বত বাহিনী মোতায়েন ভারতের

ডেস্ক রিপোর্ট:

গালওয়ানে চীন ও ভারতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই মুহূর্তে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৬ জুন চীন-ভারত সংঘর্ষে গোলাগুলি বিনিময় ছাড়াই ২০ জন ভারতীয় নিহত হয়, বেশ কিছু চীনা সৈন্যও হতাহত হয় বলে ভারত দাবি করে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন তথ্য জানানো হয়নি।

গালওয়ানে ভারত-চীন সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বৈঠক করেছেন দুই দেশের সামরিক কমাণ্ডাররা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ইরানের ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল প্রেসটিভি এ খবর দিয়েছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত আকসাই চীন-লাদাখ সীমান্তের লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোলে চীনের অভ্যন্তরে দুপক্ষের কমান্ডারা (সোমবার) বৈঠকে বসেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দু পক্ষের নিচের পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

গত সোমবার গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং তাতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয় যার মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন। চীনের পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা পরিষ্কার নয়। সংঘর্ষের জন্য দু দেশ পরস্পরকে দায়ী করেছে। ১৯৬৭ সালের পর এটিই ভারত ও চীন সীমান্তে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

এদিকে সীমান্তে চীনা আগ্রাসন ঠেকাতে বিশেষ পর্বত বাহিনী মোতায়েন করেছেন ভারত। চীন-ভারতের মধ্যে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (সীমান্ত) রয়েছে। এই পুরো সীমান্ত জুড়ে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে দেশটি। চীনা লিবারেশন আর্মি পশ্চিম বা মধ্য সেক্টরে সীমান্ত লঙ্ঘন করলে জবাব দেবে এ বিশেষ বাহিনী।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনা সেনাবাহিনী সীমান্ত অতিক্রম করে কোনো আগ্রাসন চালালে তা প্রতিহত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এ বিশেষ বাহিনীকে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে যুদ্ধের জন্য এসব বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়েছে। চীনা সেনাবাহিনীর বিপরীতে মোতায়েন করা এসব পর্বত বা পাহাড়ি সেনার গেরিলা ও অতি উচ্চতায় যুদ্ধের প্রশিক্ষণ পেয়েছে। এসব কসরত কার্গিল যুদ্ধে দেখানো হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!