ভারতে করোনায় মৃত বেড়ে ৪৮০, আক্রান্ত ১৪৩৭৮

করোনা মোকাবেলায় মানুষের ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) বাড়ানোর প্রতিষেধক বানাতে গবেষণা করছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। ভারতে এখন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪৩৭৮, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৮০ জন। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ ঘন্টার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯১ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩ জন।

ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের প্রথম প্রতিবেদন পেশ করেছেন যেখানে ২১ জন নাবিক করোনা আক্রান্ত পাওয়া গেছে। আক্রান্ত নাবিকরা যাদের সংস্পর্শে ছিলেন তাদেরও পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মুম্বাইয়ে এশিয়ার বৃহৎ বস্তি ‘ধারাভাই’ তে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল নতুন ১৫ জন সনাক্ত হবার পর মোট সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০১ জন। মুম্বাইয়ে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০৭৩ জন। এর পরের অবস্থান মহারাষ্ট্রের। এই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১২০০+

করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ হবার সংখ্যাটাও অনেকটা স্বস্তির। আজ সকালে যা শতকরা ১৩.৮৫ এ দাড়িয়েছে, গত শুক্রবার ছিল শতকরা ১৩.০৬, বৃহস্পতিবার ছিল শতকরা ১২.০২, বুধবার ছিলো শতকরা ১১.৪১ এবং মঙ্গলবার ছিল শতকরা ৯.০৯ ভাগ। গতকাল হাসপাতাল থেকে ২৬০ জনকে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠানো হয়,গত বৃহস্পতিবার ১৮৩ জনকে সুস্থ হওয়ার পর বাড়িতে পাঠানো হয়।

ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এখন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে গবেষণা করছেন। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) এর পরিচালক ড. শিখর মান্দী বলেন, আমরা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য অনুমতি পত্র দিয়েছি, যেখানে একদল গবেষক কাজ করছেন। আমরা আশাবাদী ভ্যাকসিনটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে যা করোনাভাইরাসকে মোকাবেলা করতে পারবে।

মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই দেশটিতে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি হবে। তবে তারপরেই ধীরে ধীরে সেই সংক্রমণ কমবে বলেও আশা রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এটাও ঠিক যে, যত বেশি করে দেশে করোনা সংক্রমিতের সন্ধান মিলছে, ঠিক ততটাই দ্রুতহারে অনেকেই এই রোগের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযুদ্ধে জিতছেন।

দেশটিতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৩ মে পর্ন্ত। অনেকেই বলছেন, টানা লকডাউন চলার ফলে ধীরে ধীরে এই মারণ রোগের প্রকোপ কমে আসবে ভারতে। কেননা দেখা যাচ্ছে যেসব দেশগুলোই করোনা ভাইরাসকে রুখতে প্রথম থেকেই পুরোপুরি লকডাউনের রাস্তায় হেঁটেছে তারাই ভালো ফল পেয়েছে। ভারতও ২৫ মার্চ থেকে টানা লকডাউনের মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে।সূত্র: এনডিটিভি

প্রসঙ্গত, প্রতিদিন কয়েক হাজার সেই সংখ্যা। গেল সাতদিনে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।
এক সপ্তাহ আগে গত ১০ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৬৮৮ জন। সাতদিন পর ১৭ এপ্রিল রাত পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ জন।ওয়ার্ল্ডোমিটারের এই তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাটা গত এক সপ্তাহে ব্যাপকহারে বেড়েছে।

এই সাতদিনের মধ্যে মৃত্যুর মাত্রা সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, গত ১৪ এপ্রিল। সেদিন একদিনেই করোনাভাইরাসে ১০ হাজার ৭৬১ জন প্রাণ হারিয়েছিল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!