ভাইরাস জ্বর কী, হঠাৎ হলে কী করবেন?

এই ভ্যাপসা গরম, এই ঝড়বৃষ্টিতে আবহাওয়ায় কিছু কিছু ভাইরাস শরীরের ওপর আক্রমণের সুযোগ পায়। আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে যাঁরা খাপ খাওয়াতে পারেন না, তাঁরাই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথাসহ নানা অসুখে।

ভাইরাস জ্বরের লক্ষণগুলো হলো

শরীরে  ঠাণ্ডাভাব, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, হাত-পায়ের গিরায় ব্যথা, খাবারে অরুচি, নাক দিয়ে অঝোরে পানি ঝরা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি, ঠাণ্ডা এবং সর্দিজনিত স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি হওয়া। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই আবার এর কিছু ব্যতিক্রমও দেখা যায়। যেমন: পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়াও হয় অনেকের। শিশুদের ক্ষেত্রে আবার কিছু ব্যতিক্রম লক্ষণ দেখা যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে টাইপ ‘বি’ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সংক্রমণে পেটব্যথাও হতে পারে। ভাইরাস জ্বর সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। বাতাসের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি থেকেও ভাইরাস জ্বরের সংক্রমণ ঘটতে পারে। ঠাণ্ডা লাগলে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজলেও ভাইরাস জ্বরের সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

চিকিৎসায় করণীয়

ভাইরাস জ্বর সাধারণত তেমন ভয়াবহ কোনো রোগ নয়। তাই ভাইরাস জ্বর হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণও নেই। এই জ্বরের জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খেলেই যথেষ্ট। ভাইরাস জ্বরের ক্ষেত্রে সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রামও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাইরাস জ্বর হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার অসুস্থথাকাকালীন সময় ঘরের ভেতর থাকাই ভালো। কেনোনা এই জ্বর যেহেতু বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা অন্যান্য সুস্থ্য ব্যক্তিরাও এই ভাইরাস জ্বরের শিকার হতে পারেন। তবে ৪/৫ দিনের মধ্যে না সারলে, সপ্তাহ খানেকের বেশি সময় ধরে জ্বর দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুদের দিকে বিশেষ নজর
ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত শিশু প্রায়ই পানিশূন্যতায় ভোগে। কেননা জ্বরের তাপে শরীর পানি হারায়। তাই শিশুকে প্রচুর পানি ও তরল খাবার দিন। শুধু পানি পান করতে না চাইলে ফলের রস, তরমুজ বা আঙুর, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদিও দিন। সেই সঙ্গে শিশুর দরকার প্রচুর বিশ্রাম। বেশির ভাগ শিশুর খাওয়ার রুচি যায় নষ্ট হয়ে, কিছুই খেতে চায় না। এমন খাবার দিন, যা অল্প খেলেও বেশ শক্তি পাবে। যেমন দুধ-চিনি দিয়ে তৈরি কোনো নাশতা, মুরগির মাংসের স্যুপ, পাস্তা, ফলমূল ইত্যাদি। 

জ্বর বাড়লে গা মুছে দিন, সঙ্গে সাধারণ প্যারাসিটামল। ওষুধের সঠিক মাত্রাটি জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন পানির ড্রপ ব্যবহার করা যায়। খুসখুসে কাশিতে মধু বা আদার রস বেশ আরাম দেবে। ভাইরাল ফ্লু বা জ্বর পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় এমনিতেই কমে যায়। কিন্তু জ্বর দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাত্রার হলে, শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে বা সে খাওয়াদাওয়া একদম ছেড়ে দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জ্বর হলে কী খাবেন

আদা দিয়ে গলানো ভাত খুব একটা উপাদেয় নয় কিন্তু ফ্লু-এর ক্ষেত্রে শরীরের জন্য বেশ উপকারী। ভাতটা গলা গলা  থাকলে ভালো। আপেল, কমলালেবু, আঙুর, আনারস ইত্যদি ফলে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ রয়েছে। তাই জ্বরের সময় ফ্রুট সালাদ খাওয়া উচিত বেশি করে। আদার মতোই রসুনও সর্দিজ্বর নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। এককাপ মতো পানিতে একটি কোয়া ফেলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই ইষদুষ্ণ পানি দিনে দুইবার খেলে জ্বর কমাতে সাহায্য করে। জ্বরের সময় মাঝেমধ্যেই একটি-দুটি করে কিসমিস খাওয়া ভালো কারণ এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। তাছাড়া শরীরে এনার্জি সরবরাহ করে এই ড্রাই ফ্রুট। সর্দি-কাশি প্রতিরোধে পরিচিত টোটকা তুলসি-মধু। জ্বর হলে একটি-দু’টি পাতা চিবিয়ে খেলেও উপকার হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!