বেগুনি ঠোঁট, অন্যমনস্কতাসহ করোনার ১৩ উপসর্গ চিহ্নিত!

অনেক রকম প্রজাতি আছে করোনাভাইরাসের , কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। কীভাবে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, লক্ষণগুলো কী—এই সব নানা রকম বিষয়ই আলোচিত হচ্ছে। সাধারণত কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা ও শাসকষ্টের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ। সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়। সাধারণ এসব লক্ষণের পাশাপাশি নিত্যনতুন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত নিজেকে পরিবর্তন করায় উপসর্গেও পরিবর্তন ঘটছে। এবার জাপানের চিকিৎসকরা খুঁজে পেলেন করোনার নতুন ১৩ উপসর্গ।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করে ১৩টি উপসর্গ চিহ্নিত করেছে। সে রকম অবস্থা দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আগে থেকে নিশ্চিত হতে পারলে চিকিৎসাপ্রক্রিয়া যেহেতু সহজ হয়ে যায়, ফলে সেদিক থেকেও এটা হচ্ছে উপকারী এক তালিকা। নতুন ১৩টি উপসর্গের তালিকাটি এ রকম: ১. ঠোঁট বেগুনি রঙের হয়ে যাওয়া ২. দ্রুত শ্বাস নেওয়া ৩. হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি ৪. অল্প একটু হাঁটাচলা করাতেই শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ৫. বুকে ব্যথা ৬. শুয়ে থাকতে না পারা, উঠে না বসলে শ্বাস নিতে না পারা ৭. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ৮. হঠাৎ শব্দ করে শ্বাস নিতে শুরু করা ৯. অনিয়মিত নাড়ির স্পন্দন ১০. মলিন চেহারা ১১. অদ্ভুত আচরণ করা ১২. অন্যমনস্কভাবে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ১৩. বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া, উত্তর দেওয়ায় অপারগতা।
এদিকে, জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও প্রায় একমাস বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান। করোনার বিস্তার রোধে দেশটির পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল তা আগামী ৬ মে শেষ হওয়ার কথা। সরকারি সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

করোনার বিস্তার ঠেকাতে জারি করা লকডাউন ইউরোপসহ অন্যান্য অনেক দেশ যখন ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করছে তখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আগামী ৭ মে থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরা খুব কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।’ তিনি আরও জানান, আরও বেশকিছুদিন ‌‘দেশকে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও বাড়ানো যায় কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তিনি। আগামীকাল শুক্রবার দেশটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের একটি দল শিনজো আবের নেতৃত্বে তা মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করবে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!