বিশ্বাস,ধৈর্য্য ও মনোবলের জয়।

“ক্যান্সার” !! ‘ শব্দটি ‘ এত নিষ্ঠুর একটি শব্দঃ

আজকে আমি তথ্যসমেত বিশেষ প্রয়োজনীয় একটি বিষয়ের উপর  কিছু কথা লিখব বলে মনে সাহস সংগ্রহ করে লিখতে চেষ্টা করব। জানিনা কতটুকু গুছিয়ে বা বুঝিয়ে লিখতে পারব। কারণ এসব বিষয়ে আমার এই প্রথম পদক্ষপ নেয়া। এর আগে অনেক কিছু নিয়ে লিখেছি, তবে আমার এই লেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন।  লিখাটি এক পর্বে শেষ হবে না এটি কয়েকটি পর্বে শেষ করব। সেটিও সকলের পড়তে সুবিধার জন্যে এবং বিষয়ের ব্যাপৃতির জন্যে।

মহান সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করে শুরু করছি। “ক্যান্সার” !! ‘ শব্দটি ‘ এত নিষ্ঠুর একটি শব্দ। যার নাম শুনলে আমরা যত বড় সাহসী ও শক্তিশালী ব্যাক্তি হইনা কেন অবশ্যই সবাই কম বেশি আৎকে উঠি। আর এই আৎকে ওঠা অস্বাভাবিক কিংবা কোনরূপ আদিখ্যেতিপনাও নয়। বিষয়টি এমন হয় যেমন কোন আপনজনের কিংবা প্রিয় মানুষটির মৃত্যুদন্ডাদেশ জারি হয়েছে এরকম কিছু মনে হওয়া অযুক্তিক কিছু না। কিন্তু তারপরও আল্লাহর অশেষ কৃপায় অনেক সময় আমরা কেউ না কেউ এই নিষ্ঠুর হন্তার থাবা থেকে বেঁচে যেতেও পারি। সেটা হয়ত কয়েক হাজারে অথবা তার বেশি সংখ্যার মধ্যে একজন বা দুইজন। তবে এই ফিরে আসার ক্ষেত্রে আল্লাহর অশেষ করুণাতো অবশ্যই, সেই সাথে যদি রোগটা প্রথম ধাপে (first stage)  ধরা পড়ে যায় ও উপযুক্ত চিকিত্সা এবং পর্যাপ্ত সেবা ও মানসিক শান্তির পরিবেশ দেয়া হয়ে থাকে। ক্যান্সার এমন রোগ যা জীবনকে আক্রমণ করলে সবাই অন্তত জেনে যায় তার মৃত্যুর ডাকটা চলে এসেছে। আমি এ নির্মম বিষয়টি নিয়ে কিছু কথা কেন লিখছি? কারণ আমরা যারা এই মহা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এখনো বেঁচে আছি তাদের চারপাশে যারা আছেন তাদের করণীয় কি এই মানুষটির প্রতি। আর ভুক্তভোগীর কি করা দরকার তা একটু আধটু আমার নিজের অভিজ্ঞতা, এ বিষয় নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি এবং অস্ট্রেলিয়ার একজন  চিকিত্সকের লিখা “ক্যান্সার বিজয়” নামক একটি বই থেকে কিছু তথ্য বা পরামর্শের সাহায্যে কিছু লিখার সাহস নিলাম।

ইয়ান গালার নামের এই চিকিত্সকের “You can Conquer Cancer” (ক্যান্সার বিজয়) নামক বইটি আমি বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার আমেরিকায় আসার সময় আমার ছোট ভাই (কাজিন) ফয়সাল আমাকে দিয়ে পড়তে অনুরোধ করেছিল। বেশ কিছুদিন পর বইটি পড়লাম। অনেকটুকু পড়ার পর মনে হলো আমার মনে এত দিন থেকে যে বিষয়টি সম্বন্ধে কিছু লিখব ভেবেছি তা করতে হলে এই বইটির সাহায্যতো নিতে পারি। কারণ এই কঠিন ব্যাধিটি নিয়ে আমার লিখার ইচ্ছা থাকলেও সাজিয়ে হয়ত লিখতে পারব না।  তাই সাহস করতে পারছিলাম না। আজ বইটির আশ্রয়ে কিছুটা সাহস হলো । তাই ভাবলাম আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য সবকিছু যা আমি মোকাবিলা করেছি তা যোগ করে লিখাটা শুরু করতে পারি । হয়তবা আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস থেকে খোব বেশি না হলেও আমরা যারা ক্যান্সার নামক মারোনাস্ত্রের আঘাত কাটিয়ে টিকে আছি কিংবা যারা এখনো এই আঘাতটির জখম নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি তাদের জন্যে কিছুটা কাজে লাগতে পারে।

নিষ্ঠুর এই  ব্যাধিটির সাথে দীর্ঘদিন বসবাস এবং বিজয়। আল্লাহর অশেষ কৃপায়ঃআমি একজন ক্যান্সার উত্তরজীবী (survivor) 2011 তে এই ব্যাধিতে আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম। আমি তখন বাংলাদেশে। আল্লাহ্‘র অশেষ কৃপায় এবং আমার চারপাশের সকল আত্মীয়, শুভাকাঙ্ক্ষী, আমার তৎতকালীন কর্মস্থলের অভিভাবকবৃন্দ ও সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা (আর্থিক ও মানসিকভাবে) ও দোয়ায় আমার সফল চিকিৎসা বাংলাদেশেই হয়েছিল। আমি আজীবন তাঁদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব এবং সর্বদা মহান আল্লাহ্’র কাছে তাঁদের মঙ্গল কামনা করি। এই বছর 20২০ এর অক্টোবরে আমার সেই ভয়াবহ সময়ের ৯ বছর হবে। আমার এবিষয়ে লিখার মূল কারণ, আক্রান্তের পরবর্তী কারণসমূহ আলোচনা করা। উদ্দেশ্য হলো এর মধ্যে যদি কোন রোগী আল্লাহর কৃপায় উক্ত ব্যধি থেকে মুক্তি পেয়ে যান, তবুও তিনি যে, আবার আক্রান্ত হবেন না এর নিশ্চয়তা কিন্তু কোন চিকিৎসা বিজ্ঞানী অথবা চিকিৎসক দিতে পারেননা।

    রওশন চৌধুরী    (চলবে পরবর্তী পর্বে)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!