December 4, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

বিশ্বজুড়ে ২ লাখ কোটি ডলার সন্দেহজনক লেনদেন, তালিকায় বাংলাদেশি তিন ব্যাংক

সব ধরনের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করে হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি), জেপি মরগ্যান, ডয়চে ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক দুই ট্রিলিয়ন ডলার সন্দেহজনক লেনদেন করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শতাধিক দেশের বহু ব্যাংকের ১৮ হাজার ১৫৩টি লেনদেনের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ সন্দেহজনক পন্থায় স্থানান্তর হয়েছে বলে জানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন)।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) তাদের ওয়েবসাইটে ফিনসেনের নথিগুলো প্রকাশ করেছে। ফিনসেনের তালিকায় বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি ও একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সন্দেহজনক আটটি লেনদেনের কথা জানা গেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে এনটিভি অনলাইনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। তাই সংগত কারণে ব্যাংকগুলোর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ফিনসেন রোববার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর আড়াই হাজারের বেশি নথি, দুই হাজারের বেশি গোপন এবং সন্দেহজনক তথ্য ফাঁস হওয়ার কারণে তথ্যগুলো উদঘাটন হয়েছে।

ফিনসেন জানিয়েছে, তাদের হাতে দুই হাজার ৬৫৭টি নথি রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ১০০টি ‘সাসপিশাস অ্যাক্টিভিটি রিপোর্ট’ (এসএআরএস) বা সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য। তবে এসএআরএস মানেই যে অপরাধমূলক কোনো কিছু, তা নয়। কোনো অ্যাকাউন্টধারীকে ব্যাংকের সন্দেহ হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর এসএআরএস পাঠানো হয়। কোনো ব্যাংক একটা এসএআরএস পাঠিয়ে তাদের চ্যানেলে প্রতারক বা কালো টাকার মালিকের অর্থ স্থানান্তর করবে, এটাও আইনসিদ্ধ নয়। অথচ ব্যাংকগুলো এমনটি করেছে বলে অভিযোগ। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অ্যাকাউন্টধারীর অর্থ স্থানান্তর ব্যাংকের আটকানোর কথা।

আইসিআইজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফিনসেনের নথিগুলো থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের ব্যাংক তিনটিতে এসেছে তিন লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৩ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে চার লাখ ৯৫ হাজার ২০৪ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে তিনটি লেনদেনের মাধ্যমে একটি ব্যাংকে এসেছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৩৩ মার্কিন ডলার। চারটি লেনদেনের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি থেকে পাঠানো হয়েছে চার লাখ ৯৫ হাজার ২০৪ ডলার। আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিতে এসেছে এক হাজার ৬০০ ডলার।

আইসিআইজে বলছে, এগুলো ফিনসেনের সন্দেহজনক লেনদেনের তালিকাভুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক মেলকন করপোরেশন ও স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড পিএলসির মাধ্যমে হয়েছে। নিউইয়র্ক মেলকন থেকে তিনটি লেনদেনের মাধ্যমে এসেছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৩৩ ডলার, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড পিএলসি থেকে পাঁচটি লেনদেনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে চার লাখ ৯৫ হাজার ২০৪ ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো তিনটি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং থেকে দেশের একটি ব্যাংকে তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৩৩ মার্কিন ডলারের তিনটি লেনদেন হয়েছে। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি থেকে ডয়েচে ব্যাংক এজিতে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৪ ডলারের একটি লেনদেন হয়েছে। একই দিনে ৩৯ হাজার ডলারের আরেকটি লেনদেন হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর দুই ব্যাংকের মধ্যে দুই লাখ ৭৫০ ডলারের একটি এবং ১৯ হাজার ৫০০ ডলারের একটি লেনদেন হয়েছে। ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল লাটভিয়ার রিজিওনালা ইনভেস্টটিসিজু ব্যাংক থেকে অপর বেসরকারি ব্যাংকে এক হাজার ৬০০ ডলারের লেনদেন হয়েছে।

গোটা বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য আইনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তো বটেই, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা আছে।

এই ফাঁস হওয়া তথ্যগুলোকে রাজনীতিবিদ, তারকা এবং ব্যবসায়িক নেতাদের আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত ২০১৭ সালের প্যারাডাইস পেপার, ধনীদের করফাঁকি দেওয়ার প্রতিবেদন ২০১৬ সালের পানামা পেপার, দেশের ব্যাংকগুলোর গোপন আইন সম্পর্কিত ২০১৫ সালে সুইস লিক ও বড় বড় কোম্পানির কর ফাঁকি সম্পর্কিত ২০১৪ সালের লুক্সলিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

error: Content is protected !!