বিদেশে কর্মসংস্থান: প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে বিদেশে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ফলে কর্মসংস্থান বাড়াতে করণীয় বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে কোভিড-১৯ মহামারিকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও যারা বিদেশে গেছেন তাদের কীভাবে আরও ভালোভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়া যায় বা কীভাবে আরো দেশে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা যায় সে বিষয়ে আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৯ সালে সাত লাখ ১৫৯ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়, টার্গেট ছিল সাত লাখ এক হাজার। ২০২০ সালে টার্গেট ছিল সাড়ে সাত লাখ। কোভিড-১৯ এর কারণে গত জানুয়ারি থেকে আগাস্ট পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছর এই সময় পর্যন্ত চার লাখ ছয় হাজার ৯৬২ জন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রেমিট্যান্স ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেকর্ড ১৮ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া যায়। যেটা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

তিনি বলেন, আমরা কোভিডের কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম, কিন্তু এটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা একটা ভালো দিক।

তিনি জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জন কর্মী দেশে এসেছেন। এরমধ্যে ২৮ হাজার ৫৮৬ জন ট্রাভেল পাস নিয়ে ফেরত এসেছেন। এদের পুনরায় ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় এক কোটির মতো মানুষ বাইরে থাকেন বা কাজ করেন। বড় সংখ্যক লোকজন ট্রাভেল করেন।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ২৯ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৭৪ জন বিদেশ থেকে আসেন। এদের এয়ারপোর্টে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

ইকামা পরিবর্তনে অনুরোধ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সৌদি আরবে যাওয়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কয়েকবার সময় বাড়ানো হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন, ওনারা আশ্বাস দিয়েছেন কনসিডার করছেন আরও বাড়ানো হবে, যাতে সবাই যেতে পারে।

‘পাশাপাশি ইকামা পরিবর্তন করার একটা ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন। কারণ অনেক দেশ থেকে অনেক উদ্যোক্তা চলে গেছেন। আমাদের বেশিরভাগ লোকই বেসরকারি সেক্টরে চাকরি করে। ’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন আরও বেশি করে বিমান বা সৌদিয়ার ফ্লাইট অ্যালাও করার জন্য। ২৪ দিনের সময় আরও বাড়ানোর কথাও বলেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, করোনাকালে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাঙালিরা দেশে ফিরছে। তাদের অন্য কোনো দেশে অর্থাৎ যেসব দেশে বাঙালিদের কর্মসংস্থানের চাহিদা বা সম্ভাবনা আছে, সেসব দেশে মাইগ্রেশন দেওয়া যায় কিনা- সে ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেটি নিয়ে আলোচনা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!