বিদেশে এমপি আটকের ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

কুয়েতে মানবপাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহীদুল ইসলাম পাপুলকে। তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন ১২জন বাংলাদেশিও। কুয়েতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খরব অনুযায়ী এমপি পাপুলকে জেলে রাখা হয়েছে।

এতসব ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে পাপুলের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোন তথ্য নেই। কুয়েতে কী ঘটছে সে বিষয়ে ঢাকা থেকে বারবার জানতে চাওয়া হলেও কুয়েত মিশন থেকে কোনও তথ্য নেই বলে জানানো হয়েছে। 

এদিকে বিদেশের মাটিতে একজন সাংসদ আটকের ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একজনে এমপি আটকের ঘটনা দেশের জন্য অসম্মানজনক। স্বাভাবিকভাবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, খুবই হতাশাজনক। এটি নিয়ে কুয়েতে অনেক আলোচনা হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হওয়া উচিত যে পরিক্ষিত লোক ছাড়া জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা ঠিক না।

পাপুল গ্রেপ্তার হলেও কুয়েতে আমাদের রাষ্ট্রদূত এখনও অফিসিয়ালি কোনও তথ্য দেননি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা জানতে চাইছি সত্য ঘটনা কী এবং সরকারি ভার্সনটা কী? জানার পরে আমরা এটি ভেরিফাই করবো এবং আমাদের আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত আমাদের বলেছেন তারা প্রথমেই নোট ভার্বাল পাঠিয়েছেন, কিন্তু লকডাউন চলায় কেউ রিসিভও করে না, কথাও বলে না। কুয়েত এখনও কোনও উত্তর দেয়নি। 

এ কে মোমেন বলেন বলেন, তবে আমরা রাষ্ট্রদূতকে স্ট্যান্ডিং অর্ডারে বলেছি বিদেশে কোনও বাংলাদেশি এ ধরনের অবস্থায় পড়লে আমরা কনস্যুলার সেবা দেই। ওনারা যদি কনস্যুলার সেবা চান তবে আমরা সেটি দেবো। এরমধ্যে রয়েছে আমাদের মিশনের লোকেরা আটককৃত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করবেন, আইনজীবী দেয়া ইত্যাদি। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন আটককৃত ব্যক্তির খুব ভালো আইনজীবী আছে এবং মনে হয় ওনারা এগুলো চাইবে না।

কুয়েতে দূতাবাসের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে কিছুটা দুর্বলতা আছে। কুয়েতে নতুন রাষ্ট্রদূত খুব শিগগিরই যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগামী ৬ জুলাই পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপনের কথা রয়েছে। এর আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। অপরাধ প্রমাণ হলে কুয়েতি আইনে পাপুলের পাঁচ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সেইসঙ্গে জরিমানা হতে পারে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!