বিদায় ক্যাপ্টেন মাশরাফী

মাশরাফীর নেতৃত্বের শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখলেন তামিম-লিটনরা৷ এমন সমাপ্তিই চেয়েছেন তিনি। যাবার বেলায় অন্তত এভাবে হাসতে চেয়েছেন। যাক মহানায়কের সেই স্বাদটা বোধ হয় পূরণ হলো। কাকতালীয়ভাবে আজকের জয় ছিল মাশরাফীর নেতৃত্বে টাইগারদের ৫০তম জয়৷

সিলেটে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বৃষ্টি আইনে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ রানে পরাজিত করল বাংলাদেশ। এ তো মাশরাফির জয়। এ তার জন্য সতীর্থদের উপহার।

ম্যাচ তখন শেষ৷ ড্রেসিং রুম থেকে একে একে বাংলাদেশের দলের সবাই এলেন মাঠে৷ সবার জার্সির পেছনে লেখা দুই, সামনে ইংরেজিতে ‘থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন’ (ধন্যবাদ অধিনায়ক)৷ এই নাম্বারটি পরেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা৷ যিনি টাইগারদের অনবরত জিততে শিখিয়েছেন৷ গেঁথেছেন একটি দল হিসেবে৷

সিরিজের পুরস্কার বিতরণীর শুরুতেই তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন৷ দলের পক্ষ থেকে দেয়া হয় সবার স্বাক্ষর সম্বলিত জার্সি৷ এই সময় স্টেডিয়াম জুড়ে দর্শকদের মুখেও উচ্চারিত হচ্ছিল একটিই নাম-মাশরাফী৷

জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই৷ তবে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণায়৷ তার জন্য টাইগারদের আলাদা কিছু তো করা চাই৷ তামিম, লিটনরা সেই কাজটিই করলেন৷

অধিনায়ক হিসেবে অবশ্য শেষ টস ভাগ্যটি মাশরাফীর পক্ষে ছিল না৷ টস জিতে ফিল্ডিং নেন জিম্বাবোয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শন উইলিয়ামস৷

তামিম, লিটনের শুরুটা ছিল সতর্ক৷ প্রথম পাঁচ ওভারে রান এসেছে মাত্র ২০৷ তবে অর্ধশত পূর্ণ হয় নবম ওভারেই৷ এরপর দুজনই এগিয়ে যান অনবদ্য এক ইনিংস রচনার দিকে৷ ত্রিশ ওভারে তারা তুলে নেন ১৫২ রান৷ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী রানের জুটি আগে ছিল ১৭০ রান৷ শাহরিয়ার হোসেন ও মেহরাব হোসেন ১৯৯৯ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষেই সেই রেকর্ড গড়েন৷ ২০ বছর পর এসে তা ভাঙেন তামিম এবং লিটন৷ ৩৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর পৌছে যায় ১৮০-তে৷ লিটন ততক্ষণে পেরিয়ে গেছেন ১০০ আর তামিম অপরাজিত ৭৮ রানে৷
বাংলাদেশের পক্ষে যেকোন উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের হাতছানি তখন দুই ওপেনারের সামনে৷ ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যা গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ৷ ২২৪ রানের সেই রেকর্ড অনায়াসেই পেরিয়ে যান বাংলাদেশের দুই ওপেনার৷ তাদের জুটি ভাঙ্গে ২৯২ রানে৷ লিটন ১৪৩ বলে ১৬ চার ও আট ছক্কায় ১৭৬ করে আউট হন৷ ভাঙেন দুই দিন আগেই তামিমের করা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ১৫৮ রানের রেকর্ড৷ মাঝে বৃষ্টির জন্য ইনিংস বেধে দেয়া হয় ৪৩ ওভারে৷ লিটন আউট হলেও তামিম অপরাজিত থাকেন ১২৮ রানে৷ বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় তিন উইকেটে ৩২২৷ ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে জিম্বাবোয়ের জন্য ৪৩ ওভারে টার্গেট ঠেকে ৩৪২ রানে৷

প্রথম ওভারেই টিনাশে কামুনহুকামউইকে ফেরান অধিনায়ক মাশরাফী৷ একে একে বল করতে এসে উইকেট নেন সাইফ, আফিফ, তাইজুল আর মুস্তাফিজরা৷ ৩৭ ওভার তিন বল খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে জিম্বাবোয়ের ইনিংস থামে ২১৮ রানে৷ ১২৩ রানে ম্যাচ জিতে নিয়ে তাদেরকে হোয়াইট ওয়াশ করল টাইগাররা৷ বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ চার উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন৷

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৩ ওভারে ৩২২/৩ (তামিম ১২৮*, লিটন ১৭৬, মাহমুদউল্লাহ ৩, আফিফ ৭; মুম্বা ৮-০-৬৯-৩, সুমা ৬-১-৪৮-০, রাজা ৭-০-৬৪-০, মাধেভেরে ৫-০-২৯-০, টিরিপানো ৮-০-৬৫-০, উইলিয়ামস ৯-১-৪৬-০)

জিম্বাবুয়ে: (৪৩ ওভারে লক্ষ্য ৩৪২) ৩৭.৩ ওভারে ২১৮ (কামুনহুকামউই ৪, চাকাভা ৩৪, টেইলর ১৪, উইলিয়ামস ৩০, মাধেভেরে ৪২, রাজা ৬১, মুতুমবামি ০, মাটোমবোদজি ৭, টিরিপানো ১৫, মুম্বা ৪* সুমা ০; মাশরাফি ৬-০-৪৭-১, সাইফ ৬.৩-০-৪১-৪, মিরাজ ৮-০-৪৭-০, মুস্তাফিজ ৬-০-৩২-১, আফিফ ২-০-১২-১, তাইজুল ৯-০-৩৮-১)

ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ১২৩ রানে জয়ী বাংলাদেশ
নড়াইল এক্সপ্রেস
নড়াইলের সন্তান মাশরাফী৷ জন্ম ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর৷ পেস বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই সাড়া ফেলেন৷ তাই অনূর্ধ-১৯ দলে থাকতেই বাংলাদেশের তৎকালীন অস্থায়ী ক্যারিবিয়ান বোলিং কোচ অ্যান্ডি রবার্টসের নজর কাড়েন৷ ডাক পড়ে ‘এ’ দলে৷ সেখানে খেলেন মাত্র এক ম্যাচ৷ তারপর? পরেরটা ইতিহাস৷

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!