November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

বাড়লো নোবেল পুরস্কারে অর্থের পরিমাণ

এ বছর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরা অতিরিক্ত ১০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন অর্থাৎ প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ডলার বেশি পাবেন। নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধানের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টাইমস অব ইন্ডিয়া এ কথা জানিয়েছে।

নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়ানো হচ্ছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। ফলে এবার পুরস্কারের অর্থমূল্য হবে এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য শেষ বেড়েছিল ২০১৭ সালে। তখন বেড়ে হয়েছিল ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার। গত বছর বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও শান্তির যে পাঁচটি ক্ষেত্রে এই পুরস্কার দেয়া হয় তার প্রতিটিতেই অর্থমূল্য ছিল ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার।

উল্লেখ্য, গত বছর সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয়নি। এবার সাহিত্যে একইসঙ্গে দুই বছরের প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হবে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই (যে সপ্তাহ সোমবার থেকে শুরু) বিজ্ঞান (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও চিকিৎসা বিজ্ঞান), অর্থনীতি, সাহিত্য ও শান্তির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদানের জন্য পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হবে।

কোনো বিভাগে দুই বা তিনজন সেই পুরস্কার ভাগাভাগি করে পেলে সেই অর্থ ভাগ করে দেয়া হয়। তবে সেই ভাগাভাগিটা নির্ভর করে নোবেলজয়ীদের কাজের গুরুত্ব ও অবদানের ওপর।

অতীতে বহুবার এমন হয়েছে কোনো একটি বিভাগে তিনজন পুরস্কার পেয়েছেন কিন্তু অর্থ সমানভাবে ভাগ করা হয়নি। তিনজনের একজন পেয়েছেন মোট অর্থমূল্যের অর্ধেক। আর বাকি দুজনের মধ্যে মোট অর্থমূল্যের বাকি অর্ধেকটা ভাগাভাগি করে দেয়া হয়েছে।

প্রতি বছরই অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এটাই নোবেল পুরস্কারের সনদে লেখা আছে। আর এই পুরস্কারের পদক ও মানপত্রগুলো প্রাপকদের হাতে তুলে দেয়া হয় ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিনামাইট উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল ১৯০১ সাল থেকে চালু হওয়া এ পুরস্কারের জন্য তিন কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন রেখে গিয়েছিলেন। আজকের দিনে এর মূল্যমান প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন।

পুরস্কারের মূল্যমান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। দেড় লাখ ক্রাউন থেকে শুরু হয়ে ১৯৮১ সালে এর মূল্যমান দাঁড়ায় ১০ লাখ ক্রাউন। ১৯৮০ থেকে ’৯০ এর দশকে এ মূল্যমান বেশ খানিকটা বেড়ে ২০০০ সালে ৯০ লাখ ক্রাউন এবং তার পরের বছর এক কোটি ক্রাউনে পৌঁছায়।

তবে, ২০০৮-০৯ সালে বিশ্বমন্দার প্রভাব ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগের ওপর পড়লে, প্রাক্তণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হাইকেনস্টেনকে এর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১২ সালে নোবেল পুরস্কারের মূল্যমান ৮০ লাখ ক্রাউনে নামিয়ে আনা হয়। আর, ২০১৭ সালে আবার ৯০ লাখ ক্রাউন করা হয়।

হাইকেনস্টেন বলেন, ফাউন্ডেশন সময়ে সময়ে পুরস্কারের মূল্যমান বাড়াবে। এ বছরের শেষ দিকে নরওয়ের প্রাক্তণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিদার হেলজেসেন তার স্থলাভিষিক্ত হবে।

error: Content is protected !!