December 4, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

বাপ-বেটার একই দিনে জন্মদিন: আবেগঘন বার্তা মাশরাফির

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার জন্মদিন আজ সোমবার (৫ অক্টোবর)। ক্রিকেট অঙ্গনের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র ৩৭ পেরিয়ে ৩৮ বছরে পা রাখলেন।আজ জুনিয়র মাশরাফী (ছেলে সাহেল) অর্থাৎ মাশরাফীর ছেলে সাহেল মোর্ত্তজারও জন্মদিন।

২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মাশরাফী-সুমি দম্পতির বিয়ে হয়। ২০১৪ সালের এই দিনেই তাঁদের ঘর আলো করে আসে দ্বিতীয় সন্তান সাহেল মোর্ত্তজা। ছয় পেরিয়ে সাত বছরে পা রাখছে সাহেল মোর্ত্তজা। মাশরাফীর কন্যা হুমায়রা বিনতে মাশরাফীর বয়স নয় বছর।

মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার ছেলে সাহেলের জন্মদিন একই তারিখে, ৫ অক্টোবর। পারিবারিক চিন্তা চেতনাকে সন্মান জানানোর এক প্রেক্ষাপটের কারণে মাশরাফি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন পালন বা কেক কাটেন না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তকে মিডিয়াও সব সময় সন্মান জানিয়ে আসছে। সম্ভবত এবারই প্রথম মাশরাফি তার জন্মদিনে ফেসবুকে কোন মন্তব্য পোস্ট করলেন। তবে এই পোস্টের পুরোটা জুড়েই মাশরাফি লিখেছেন তার শিশুপুত্র সাহেলকে ঘিরে।

ছেলে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। বাবা মাশরাফি সেই আনন্দ উপভোগ করছেন। ছেলেকে শেখাচ্ছেন। সেই সুন্দর সময়ের ছবিটাই মাশরাফি এঁকেছেন ফেসবুকে। মাশরাফির সেই আবেগ মন্থিত স্ট্যাটাসের পুরোটাই এখানে-

“সাহেল তোর শরীরের গন্ধ এখনও আমার নাকে পৃথিবীর সেরা সুগন্ধি, তোর প্রতিদিনের বেড়ে ওঠা আমার চোখে বিস্বয়। তুই যখন জড়িয়ে ধরিস আমাকে আমি স্থির হয়ে যাই। এই দিনে তুই পৃথিবীতে এসেছিলি তাই এই দিনটি তোর মার এবং আমার কাছে বিশেষ দিন।

তোর জন্মের সময় আমি খেলতে বাহিরে ছিলাম,জন্মের পরও তেমন সময় দিতে পারিনি, আজও নানা কাজে ব্যাস্ত থেকে পারিনা। তোকে কি শিখাতে পারছি তাও জানিনা।

আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি তোর জীবনটা অনেক বড় হোক যাতে এই পৃথিবীটাকে তুই উপভোগ করতে পারিস আপন মহিমায়। একজন ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে উঠবি এই আশায় আছি।

আজ তোর বাপের ও জন্মদিন,তুই যতো দিন পৃথিবীতে থাকবি এই দিনটায় তোর আমাকে মনে পড়বে যেখানেই থাকিস না কেন, দারুণ লাগে এটা ভাবতে।

মানুষকে ভালোবেসে আর মানুষের ভালোবাসার ভেতর বেঁচে থাক অনন্তকাল।

শুভ জন্মদিন বাবা। ইনশাল্লাহ বড় হয়ে আমাকে তোর বাপের মতো করে এই দিনে সময় দিস। ভুলে যাসনে কিন্তু!

আল্লাহ আমাকে আর তোকে বাঁচায় রাখলে আমি কিন্তু আশায় থাকবো …….।”

এদিকে জীবনসঙ্গী ও ছেলের একইদিনে জন্মদিনের উৎসব আয়োজনে দিনটা ব্যস্ততায় কাটে মিসেস মাশরাফির। হবিগঞ্জের রিসোর্টে বাবা-ছেলের জন্মদিন পালন হয় ঘরোয়া পরিবেশে।

বাবা মাশরাফি ও ছেলে সাহেল একই ডিজাইনের পাঞ্জাবি পরে এই আয়োজনে অংশ নেন।

জন্মদিনের কেকে লেখা ছিল- শুভ জন্মদিন বাপ বেটা!

জন্মদিনে শুভেচ্ছায় ভাসছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ফেসবুক পেজে এক পোস্টে মুশফিকুর রহিম লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন ম্যাশ- লাখো মানুষের অনুপ্রেরণা। মাঠ ও মাঠের বাইরে রোল মডেল হওয়ার জন্য ধন্যবাদ। দোয়া ও ভালোবাসা সব সময় কিংবদন্তি।’

এদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর মাত্র ১৮ বছর বয়সে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মাশরাফীর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সফরেই (২৩ নভেম্বর) ওয়ানডে অভিষেক হয় দেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের।

১৯ বছরের ক্যারিয়ারে টেস্ট খেলছেন ৩৬টি। সবশেষ সাদা পোশাকে মাশরাফীকে দেখা গেছে ২০০৯ সালে। টেস্টে তাঁর মোট শিকার ৭৮ উইকেট, ব্যাট হাতে তিনটি ফিফটিতে করেছেন ৭৯৭ রান।

৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২২০ ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফী, শিকার করেছেন দেশের সর্বোচ্চ ২৭০ উইকেট। ২০০৬ সালে এক ম্যাচে মাত্র ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, যা এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। ব্যাট হাতে এই ফরম্যাটে তাঁর সংগ্রহ ১৭৮৭ রান।

২০০৬ সালে দেশের প্রথম টি-টোয়ন্টি ম্যাচ দিয়েই ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে যাত্রা শুরু হয় মাশরাফীর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফরম্যাট থেকে বিদায় নিয়েছেন ২০১৭ সালের এপ্রিলে। মাঝের সময়ে ৫৪ ম্যাচে ৪২ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ১৩৬ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ৩৭৭ রান। তবে পরিসংখ্যান দিয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে মাপা যাবে না কোনোভাবেই।

বাংলাদেশকে ৮৮ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফী, যার মধ্যে জিতেছেন ৫০টিতে। বাংলাদেশের আর কোনো অধিনায়ক ৫০ জয়ে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। টি-টোয়ন্টি ফরম্যাটেও মাশরাফীর নেতৃত্বে সর্বাধিক ১০টি জয় পেয়েছে টাইগাররা। টি-টোয়ন্টি ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও ওয়ানডে ও টেস্ট থেকে ম্যাশ এখনো বিদায় নেননি ।

error: Content is protected !!