বাচ্চাদের ডায়াপার পরাতে সাবধান!

এবার শিশুদের ডায়াপারেও মিলল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ! ফলে সেগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার বাংলা সার্ভিস এই সময় এ খবর দিয়েছে।

ভারতের বাজারে বিক্রি হওয়া ডায়াপার নিয়ে একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ডিসপোজেবল ডায়াপারে ফ্যালেট জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এটি এনডোক্রিন নিঃসরণকে প্রভাবিত করে। যা শিশুর স্বাস্থ্যের উপরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

শিশুকে প্যান্টের ভিতরে ডায়াপার পরিয়ে রাখার প্রবণতা বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। কিন্তু এর ফলে শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টক্সিস লিংক নামে দিল্লিভিত্তিক একটি সংস্থার সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে বাজার চলতি শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ডায়াপারগুলিতে ২.৩৬ পিএমএম থেকে ৩০২.২৫ পিপিএম ফ্যালেট নামক রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।

পরীক্ষার জন্য স্থানীয় বাজার এবং ই-কমার্স সাইটগুলো থেকে এই সমস্ত ডায়াপারের নমুনা সংগ্রহ করেছিল সংস্থাটি। মোট ১৯টি ব্র্যান্ডের ২০টি ডায়াপারের নমুনা স্বীকৃত ল্যাবে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষা রিপোর্টে ডায়াপারেরের প্রত্যেকটি নমুনায় ফ্যালেটের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে সংস্থাটির প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর অলোকা দুবে বলেন, ‘বিভিন্ন শিশুপণ্যে সর্বাধিক বিষাক্ত ফ্যালেট ডিইএইচপি’র ব্যবহার হয় নিয়ন্ত্রিত অথবা নিষিদ্ধ। কিন্তু ভারতে যে সমস্ত ডায়াপার বিক্রি হয় তাতে ২.৩৬ পিপিএম ২৬৪.৯৪ পিপিএম এই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।’

এই প্রসঙ্গে টক্সিস লিংকের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সতীশ সিনহা বলেন, ফ্যালেট খুবই ক্ষতিকারক। যে পণ্যে এই রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় পরে সেখান থেকে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরা দিনের পর দিন ডায়াপার পরে থাকে, যা তাদের যৌনাঙ্গকে স্পর্শ করে। এর থেকে রোমকুপের মাধ্যমে এই রাসায়নিক পদার্থ শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। যা শিশুর স্বাস্থ্যের উপরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ফ্যালেট এনডোক্রিন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, স্থূলতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রজননের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!