November 27, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

‘বাইডেন জালিয়াতির ভোটে জিতেছেন’ বলে পরক্ষণেই কথা উল্টালেন ট্রাম্প

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়ী হওয়ার কথা স্বীকার করলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের অভিযোগ, ‘তিনি জিতেছেন, জালিয়াতি করেই বাইডেন জিতেছেন। কারণ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে’ বলে এক অর্থে প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের জয় স্বীকার করে নিয়ে পরক্ষণেই আবার তা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার (১৫ নভেম্বর) সকালে ট্রাম্প বাইডেনকে নিয়ে ওই টুইট করার পর সংবাদমাধ্যমে হইচই পড়ে যায়। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ‘ট্রাম্প প্রথমবারের মতো জো বাইডেনের জয় স্বীকার করে নিয়েছেন’ বলে খবরও প্রকাশ করে।

কিন্তু এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সব খবরে পানি ঢেলে দেন ট্রাম্প নিজে।

আরেকটি টুইটে তিনি বলেন, “তিনি (বাইডেন) শুধুমাত্র ভুয়া সংবাদ মাধ্যমের চোখে জিতেছেন। আমি কিছুই স্বীকার করিনি। আমাদের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া ‍বাকি আছে। এটা ছিল একটি পাতানো নির্বাচন।”

প্রথম টুইটটিতে ট্রাম্প কারচুপির নির্বাচনে ‘বাইডেন জিতেছেন’ উল্লেখ করে বলেছিলেন, “নির্বাচনে কোনও ভোট পরিদর্শক বা পর্যবেক্ষককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, একটি চরম বামপন্থি ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানিকে দিয়ে ভোটের সারসংক্ষেপ করা হয়েছে, ডমিনিয়ন, যাদের কাজের মান খুব খারাপ এবং তাদের সরঞ্জাম এতটাই বাজে যে এমনকি তারা টেক্সাসে টিকতে পর্যন্ত পারেনি (যেখানে আমি বড় ব্যবধানে জিতেছি) ভুয়া এবং বোবা মিডিয়া এবং আরও অনেক কিছু!”

ট্রাম্পের এই টুইটের পর রয়টার্স, এনবিসি নিউজ সহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের এই টুইটে ‘পরাজয় স্বীকারের’ বার্তা রয়েছে বলে খবর প্রকাশ করে।

ট্রাম্পের রোববারের টুইটগুলো নিয়ে পরে এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বাইডেনের পছন্দের শীর্ষে থাকা হোয়াইট হাউজের সম্ভাব্য চিফ অব স্টাফ রন ক্লাইন বলেন, “জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হবেন নাকি হবেন না তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার ফিড ঠিক করবে না। আমেরিকার জনগণ সেটা ঠিক করবেন।”

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বাইডেন ৩০২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের ঝুলিতে আছে ২৩২টি।

ট্রাম্প ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যে মামলা করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ রাজ্যে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

এখন যা অবস্থা তাতে আইনের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল পাল্টে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

কারণ নির্বাচনী কর্মকর্তারাই বলেছেন, ভোটে অনিয়মের বড় ধরনের কোনও প্রমাণ নেই। বরং ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনের বিজয় কালক্ষেপণ করার এবং আমেরিকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর থেকে দেশটির জনগণের আস্থা নষ্ট করার পাঁয়তারা করছেন ট্রাম্প।

error: Content is protected !!