ফেসবুকে হাসি মুখে দুটো ছবি দিলে মানুষজন ভাবে-কতো’ই না সুখি!

আমিনুল ইসলাম

নীল-সাদা এই জগত মানুষকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে! আজকাল তো মানুষ ফেসবুকে’ই খায়, ঘুমায়, কেনাকাটা করে, ব্যবসা করে, ভালোবাসে, প্রেম করে। আর কিছু বাকি আছে কিনা আমার জানা নেই!
এখানে হাসি হাসি মুখে দুটো ছবি দিলে মানুষজন ভাবে- মানুষটা কতো’ই না সুখি!

মার্সিডিজ গাড়ি’র সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছবি দিলে মনে করে- মানুষটা বিরাট বড়োলোক!

আবার মন খারাপ করে কেঁদে কেঁদে একটা ভিডিও আপলোড করলে মনে করে- আহা, কতো দুঃখ এই মানুষটার।

এইসব দেখে আমরা দিন কাটাই, খাই, ঘুমাই, প্রেম করি, ভালোবাসি।

গতকাল ফেসবুকে দুটো ছবি দিনভর দেখছিলাম। রাত পার না হতেই সব উল্টে গেল!

গতকাল সকালে দেখলাম চট্টগ্রামের একটা ছবি। সেখানে এক ছেলে প্যান্ট খুলে প্রকাশ্য দিবালোকে অনেক মানুষের সামনে এক মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে।

এই নিয়ে ফেসবুকে অনেক অনেক লেখালেখি হয়েছে। অনেকেই ছবিটা শেয়ার করেছে। আমিও ভেবে বসেছিলাম- ছিঃ ছিঃ, মানুষ এতো অসভ্য হয়ে গেছে।

আজ সকালে উঠে জানতে পারলাম- ওই ছেলে নাকি ‘পাশের বাড়িতে সিসি টিভি লাগিয়েছে কেন?’ এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্যান্ট খুলেছিল। ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়িরা নাকি নিয়মিত সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় কিংবা এভাবে প্রতিবাদ করে বেড়ায়! যেই মেয়েটাকে ধর্ষণের কথা বলা হচ্ছিলো, সে মেয়ে এবং তার মা নিজেই নাকি বলেছে- ওই ছেলে এমন কিছুই করেনি। সে শুধু সিসি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে প্রতিবাদ করছিল!

আমি যখন ভাবতে বসেছি- কোনটা বেশি অপরাধ? প্যান্ট খুলে ধর্ষণের হুমকি দেয়া নাকি সিসি ক্যামেরা লাগানোয় মাদক ব্যবসা করতে না পারায় প্রতিবাদ করা! এই যখন ভাবছি, তখন দেখি দ্বিতীয় ছবির ঘটনাও ভুল!

গতকাল পুরো দিন দেখলাম একদল প্রশংসা করছে, আরেক দল সমালোচনা করছে এক মেয়ের। মেয়েটা নাকি মটর বাইক চালিয়ে বিয়ে করতে গিয়েছে। কেউ কেউ বলছে- বাহ, কি চমৎকার দৃশ্য। এটা যেন সব সময় হয় বাংলাদেশে। আরেকদল বলছে- ছিঃ ছিঃ, জাত গেল, জাত গেল।

এই যখন অবস্থা, আজ সকালে উঠে জানতে পারলাম ওই মেয়ে বলেছে- তার বিয়ে নাকি তিন বছর আগেই হয়েছে। বিয়েতে কোন অনুষ্ঠানও হয়নি। এই জন্য তার আক্ষেপ ছিল। এবার তার নবজাতক সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরা উপলক্ষে পরিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের সেই আফসোস ঘুচিয়েছেন এই নারী মটর বাইক চালিয়ে।

এই হচ্ছে নীল-সাদা দুনিয়া।

আপনারা যারা ফেসবুকে ঘুমান, ফেসবুকে খান আর ফেসবুকে ভালবাসেন, প্রেম করেন; তাদের জন্য এটি চমৎকার উদাহরণ হতে পারে।

নীল-সাদা এই দুনিয়ায় চাইলে মুহূর্তে চাঁদে চলে যাওয়া যায় কিংবা আটলান্টিক পাড়ি দেয়া যায়। সেকেন্ডে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে ঘুরে আসা যায়।

বাস্তবে এক জীবন তো অনেক দূরের কথা; কয়েক প্রজন্মেও হয়ত সেটা সম্ভব হয় না।

নীল- সাদার জগতটা অনেক রঙিন। বাস্তব এতো রঙিন নয়। সেখানে সাদা-কালো, নীল-সাদা, ধূসর সব মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে।
বাস্তব নিয়ে থাকুন। নইলে এইসব ঘটনার মতো একটা সময় ধাক্কা খেতে হবে। ফেসবুকিয় ধাক্কা সামলানো যায়। বাস্তব জীবনে ধাক্কা খেলে সবার পক্ষে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব না’ও হতে পারে।

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!